ইসলামে দান এর গুরুত্ব, আল্লাহর নির্দেশ এবং উপযুক্ত খাত!

ইসলামে দান এর গুরুত্ব, আল্লাহর নির্দেশ এবং উপযুক্ত খাত!
                                                         আমীর, ইসলামী সমাজ।

আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন,
"তোমরা” তোমাদের পারস্পারিক সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং অধিক স্বরণের মাধ্যমে তোমাদের রব্বের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে বেশি করে দান ছদাকাহ করবে। যদি তা কর তাহলে তোমাকে রিযিক ও সাহায্য প্রদান করা হবে এবং তোমার ভাগ্য সুন্দর ও সুসজ্জিত করা হবে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, প্রথম খন্ড, ১০৮১ নং হাদিস)

? মহাগ্রন্থ আলকুরআনে আল্লাহ বলেন,
“হে মু’মিনগণ তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্বরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্থ। (সুতরাং) আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি , তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর (আল্লাহর রাস্তায় বেশি বেশি দান কর)।(সূরা- আল, মুনাফিকুন ৯ ও ১০ এর অংশ বিশেষ)
অতপর যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় (দান) করে, তাদের উপমা- যেমন একটি শস্য বীজ, তা থেকে উৎপন্ন হলো সাতটি শীষ, প্রত্যেকটি শীষে (উৎপন্ন হলো) একশত শস্য দানা। এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন, বস্তুতঃ আল্লাহ মহান দাতা, সর্বজ্ঞ।
( সূরা-আল বাকারাহ্ ২৬১)

"আল্লাহর রাস্তায় দান না করে সম্পদ জমাকারীদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি" সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
?যারা স্বর্ণ রৌপ্য (অর্থ-সম্পদ) জমা করে অথচ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না (যাকাত আদায় করে না) তাদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দিন। যে দিন তা (যাকাত বিহীন জমাকৃত সম্পদ) গরম করা হবে জাহান্নামের আগুনে এবং তার দ্বারা তাদের ললাটে, পার্শে ও পৃষ্ঠদেশে দগ্ধ করা হবে। এটা তা-ই যা তোমরা জমা করতে নিজদের জন্য । আযাবের স্বাদ গ্রহন কর যা জমা করে রেখেছিলে।
(সূরা- তওবা, ২৪ ও ২৫)।

✓যাকাত এবং সকল প্রকার দানের উপযুক্ত খাত সমূহ:
মহাগ্রন্থ আলকুরআনের সূরা তওবায় (৬০ নং আয়াত) আল্লাহ বলেন, সাদাকাত বা যাকাত কেবল-
(১)-ফকীর (সহায় সম্বলহীন গরীব যারা অন্যের ধারস্থ)
(২)-মিসকীন (যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সকল মানুষের কল্যাণে আল্লাহর নির্শিত ও তাঁরই রাসূল (সাঃ) প্রর্শিত পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েমের কাজে নিয়োজিত কিন্তু অভাবগ্রস্থ থাকা সত্যেও তারা কারো কাছে হাত পাতে না, বা করুনা চাহে না)
(৩)-যাকাত বিভাগে কর্মরত কর্মচারীদের (একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতার পরিচালনায়-যাকাতের অর্থ আদায়, সংরক্ষন ও যথাপযুক্ত খাতে বন্টন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের) প্রয়োজনীয় বেতন ভাতা প্রদান।
(৪)-মুয়াল্লাফাতে কুলুব (যাদের মন জয় করা আবশ্যক)
(৫)- দাস মুক্ত করার জন্য।
(৬)-ঋণ পরিশোধ (ঋণগ্রস্থদের ঋণ পরিশোধে)
(৭)- আল্লাহর রাস্তায় (জাতি-ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে আল্লাহর নির্দেশিত এবং তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম কায়েমের-খেলাফত কায়েমের চূড়ান্ত প্রচেষ্ঠার আন্দোলনে) ব্যায় করা।
(৮)-মূসাফির (যে সফরে গিয়ে অভাবে পতিত হয়েছে) উপরউল্ল্যেখিত ব্যাক্তি বা সংশ্লিষ্টদের জন্য ব্যায় করতে হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বন্টন ব্যবস্থা, আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!

সম্মানতি দেশবাসী ও সচেতন মুসলমি ভাই ও বোনেরা,
মানুষ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ রাব্বূল আলামীনের সর্বোত্তম সৃষ্টি। ফলে মানুষ একমাত্র তাঁরই দাস, পৃথিবীতে তাঁরই সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতিনিধি, এটাই মানুষের সঠিক অবস্থান। মানুষের দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ ও শান্তি নির্ভর করছে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা সহ তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ প্রদত্ত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলামের আইন-বিধান পালনের মধ্যে। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না থাকলে ইসলামের সকল বিধি-বিধান পালন করা সম্ভব নয়। আবার আখিরাতের জীবনে জান্নাত লাভও নির্ভর করছে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা সহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চেষ্টার উপর। সুতরাং মানুষের দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ ও শান্তি এবং আখিরাতের জীবনে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভের লক্ষ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে সময় ও অর্থ কুরবানীর মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্টে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চেষ্টা করা। এ লক্ষ্যেই “ইসলামী সমাজ”এর সদস্যগণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সবর ও ক্ষমার নীতিতে অটল থেকে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঈমানী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ইসলামী সমাজ পরিচালিত এই মহতি প্রচেষ্টায় আপনার সম্পদের যাকাত, বিশেষ দান ও মান্নতের অর্থ প্রদান করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ভূমিকা রাখুন।

আপনার দানের অর্থ প্রদানে: যোগাযোগ করুন-
“ইসলামী সমাজ” কেন্দ্রীয় কার্যালয়: কুশিয়ারা বাজার, রায়পুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা।
ঢাকা অফিস: ৪নং দক্ষিণ বাসাবো
(কাজী অফিসের উত্তর পাশে), সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪ ।
মোবাইল: (০১৯২৭-৩৮৬৫১৫ বিকাশ পার্সনাল), (০১৭১৮-৩৪৩৮৭০-৯ ডাচবাংলা পার্সনাল, শেষে অতিরিক্ত ৯ সংখ্যাটি যোগ করতে হব) ০১৯১২-৫২৬৫২০, ০১৭৩৯-২৭৪৬৬৪, ০১৮১১-৬৫০৬২৮
ই-মেইল: [email protected]
পরিশেষে-
সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনই আমাদের একমাত্র সহায় ও সাহায্যকারী, আমরা তাঁর উপর পূর্ণ ভরসা করছি, সকল প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনি আমাদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন। আমীন!
সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে
আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্বকারী নেতা-
সৈয়দ হুমায়ূন কবীর
আমীর, ইসলামী সমাজ

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *