“ইসলাম ও ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি”

‘ইসলাম’ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞনের অভাবে বর্তমান বিশ্ব মানব সমাজে “ইসলাম ও ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি” নিয়ে চলছে চরম বিভ্রান্তি। ‘ইসলাম’ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত মানব জাতির সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সমগ্র জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন-বিধান সম্বলিত পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রয়োজনীয় আইন-বিধান সম্বলিত ব্যবস্থা ইসলাম’কে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠার পথ নির্দেশনাসহ তাঁ সর্বশেষ নাবী ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চেষ্টার প্রেক্ষিতে আল্লাহরই বিশেষ সাহায্যে রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলাম’কে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে “ইসলামী রাষ্ট্র” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে বিশ্বের কোথায়ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিষ্ঠিত সেই “ইসলামী রাষ্ট্র” প্রতিষ্ঠিত নেই, বিধায়; সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য এবং জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের মৌলিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ হিসাবে আমরা সকল মানুষই আল্লাহর সৃষ্টি। খাদ্য, পানীয়, আগুন, আলো, বাতাসসহ প্রয়োজনীয় সকল উপাদান যা আমরা ভোগ করে জীবন ধারণ করছি তাও আল্লাহরই সৃষ্ট। আমাদের বাক্শক্তি, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, কর্মশক্তি, মেধা-বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি এগুলোও আল্লাহরই দয়ার দান যা ব্যবহার করে আমরা নিজেদের পেশায় উন্নতি সাধন করছি। অর্থাৎ আমরা আল্লাহর সৃষ্টি, আল্লাহরই রিজিক ভোগ করছি এবং আল্লাহরই দয়ার দান ব্যবহার করে জীবন ধারণ ও যাপন করছি। সেই আল্লাহই আমাদের দুনিয়ার জীবনে শান্তি ও কল্যাণ লাভ এবং মৃত্যু পরবর্তী আখিরাতের জীবনে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে চির সুখের স্থান জান্নাত লাভের জন্য প্রয়োজনীয় আইন-বিধান সম্বলিত জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ প্রদান করে তার দাসত্ব, তাঁর আইন-বিধানের আনুগত্য এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা এবং প্রতিষ্ঠিত হলে ‘ইসলাম’এর আইন-বিধান দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করলেই আল্লাহর দাসত্ব, তাঁর আইন-বিধানের আনুগত্য এবং তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করা হবে। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দাসত্ব, তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর প্রতিনিধিত্ব করলেই মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হবে; হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা এবং সকল প্রকার বৈষম্য, অন্যায় ও পাপাচার দূর হবে। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন, আল্লাহ আমাদের সকলের জীবনে বরকত, শান্তি ও কল্যাণ দান করবেন, মাটি, আগুন, পানি, আলো, বাতাসসহ আল্লাহর অন্যন্য সকল সৃষ্টি আমাদের সর্বদা সহযোগিতা করবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল মানুষের মৌলিক অধিকারসহ সকল অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠিত হবে, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, ফলে সকলের জীবনেই সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা ইসলামের মৌলিক তিনটি বিষয় হলো : ১) সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, অন্য কারো নয়; অর্থাৎ আল্লাহই হচ্ছেন একমাত্র ‘রব’। এটাই আল্লাহর প্রতি ঈমানের মূল বিষয়। আল্লাহর প্রতি ঈমানের ঘোষণা হচ্ছে- ‘রাব্বুনাল্লাহ’। ফলে ২) দাসত্ব, আ্ইনের আনুগত্য ও উপাসনাও একমাত্র আল্লাহর, অন্য কারো নয়; অর্থাৎ আল্লাহই হচ্ছেন একমাত্র ‘ইলাহ’ (দাসত্ব, আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার অধিকারী একমাত্র সত্ত্বা), এর অঙ্গীকার হলো- “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু”। এবং এসব (দাসত্ব, আনুগত্য ও উপাসনা) বাস্তবায়নে ৩) শর্তহীন আনুগত্য-অনুসরণ ও অনুকরণ একমাত্র আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের, অন্য কারো নয়; এর অঙ্গীকার হলো- “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহু”। ইসলামের এই মৌলিক তিনটি বিষয় গ্রহণ ও স্বীকার করে ঘোষণা ও অঙ্গীকার করলেই একজন ব্যক্তি ঈমানদার ও মুসলিম বলে গণ্য হয় এবং তার অবস্থান ইসলামে স্বীকৃত হয়। জীবনের কোন একটি ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক এই তিনটি বিষয়ের কোন একটি বিষয় পরিত্যাগ করলে বা বাদ দিলে ব্যক্তির অবস্থান হয় ইসলামের বাহিরে- জাহিলিয়্যাতে তথা র্শিক ও কুফুরীতে। যদিও সে ব্যক্তি নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ্ব করে, যাকাত দেয় এবং কুরবানীসহ বহু আমল করে।

ইসলামের সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে আমরা মানুষ আল্লাহর দাস ও পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে সৃষ্টি হয়েও আল্লাহরই সা¤্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত এই পৃথিবীতে বসবাস করে নিজেদের খেয়াল খুশী মতো সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের মালিক তথা ‘রব’ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষকে গ্রহণ করে এবং আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা ‘ইসলাম’কে বাদ দিয়ে মানব রচিত ব্যবস্থা ‘গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সামরিক তন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি গ্রহণ করে মানুষের মনগড়া আইন-বিধান এবং মানব রচিত ব্যবস্থার ধারক বাহক নেতৃত্বের আনুগত্য স্বীকার করে মানুষের দাসত্ব করে ইসলাম থেকে পুরোপুরি বাহিরে আল্লাহর সাথে কুফর ও আল্লাহর সাথে র্শিক তথা জাহিলিয়্যাতে অবস্থান করেও নিজেদেরকে ইসলামের মধ্যে ভাবা চরম বিভ্রান্তি। কাজেই ১) যারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানব রচিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব স্বীকার করে নিজেদের মনগড়া আইন-বিধান দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করেও ইসলামে আছেন ভাবছেন তারা চরম বিভ্রান্তিতে আছেন। এবং ২) যারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মানুষের স্বীকার করে গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র ইত্যাদি মানব রচিত ব্যবস্থার ধারক-বাহক নেতৃত্ব ও সরকারের এবং মানুষের মনগড়া আইন-বিধানের আনুগত্য স্বীকার করে ইসলামে আছেন এবং নিজেদেরকে ঈমানদার মুসলিম ভেবে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাতের আমল করে জান্নাত লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারাও চরম বিভ্রান্তিতে আছেন। আবার ৩) যারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব এবং মানুষের মনগড়া আইন-বিধানের আনুগত্য স্বীকার করে ইসলামের নাম ব্যবহার করে দল গঠন করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার কথা বলে মানব রচিত ব্যবস্থা ‘গণতন্ত্রের’ অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন তারাও চরম বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত আছেন। ইসলামের নামে দল গঠন করে মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্রের অধীনে নিজেরা নির্বাচন করা, অন্যদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা এবং বিভিন্ন ইস্যু তৈরী করে বিক্ষোভ, হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও, পোড়াওয়ের মাধ্যমে দেশের সম্পদ এবং মানুষের জান, মাল ও ইজ্জতের ক্ষতি সাধন করাও চরম বিভ্রান্তি। আবার বিভ্রান্তির কারণেই সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার নামে উগ্রতা, জঙ্গীতৎপরতা, সশস্ত্র সন্ত্রাস এবং জঙ্গী হামলার মাধ্যমে মানুষ হত্যার মতো চরম অপরাধ সংঘটন করা হচ্ছে। “চুরি করার শাস্তি হিসাবে কব্জি পর্যন্ত হাত কাটার” বিধান ইসলামে থাকলেও মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকাকালীন ইসলামে আছে বলে চুরির শাস্তির ইসলামের এই বিধান কার্যকর করাটাই যেখানে অপরাধ হিসাবে বিবেচিত, সেখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলে মানুষ হত্যা করাটা ক্ষমার অযোগ্য মারাত্মক অপরাধ নয় কি? সশস্ত্র যুদ্ধ বা কিতাল করার বিধান ইসলামে আছে, কিন্তু সেই বিধান কার্যকরী করতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং সেই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা খলিফার নির্দেশে “ইসলামী রাষ্ট্রের” শত্রুদের আক্রমন প্রতিহত করতে এবং কুফরী রাষ্ট্রের অধিবাসীদের নিকট ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত প্রচারে বাধাদানকারী ইসলামের শত্রুদের দমন করার জন্যই কেবলমাত্র সশস্ত্র যুদ্ধ করার বিধান ইসলামে আছে। “ইসলামী রাষ্ট্র” প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই প্রয়োজনে প্রেক্ষিতে সশস্ত্র যুদ্ধ করার বিধান ইসলামে আছে, তাছাড়া সশস্ত্র সংগ্রাম বা কিতালের বিধান ইসলামে নেই। যেমন ঈমানদারদের জন্য সিয়াম বা রোজা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফরজ করেছেন কিন্তু সেটা সাওয়াল বা মহররম বা অন্য কোন মাসে নয়, শুধুমাত্র রমজান মাসের পুরো মাসটাই আল্লাহ রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তেমনি “ইসলামী রাষ্ট্র” প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই সশস্ত্র যুদ্ধ বা কিতালও ঈমানদারদের জন্য আল্লাহ ফরজ করেছেন কেবলমাত্র প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা বা রাষ্ট্র প্রধানের নির্দেশ ও আহ্বানে, তাছাড়া নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে ঈমানদারদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ হলো- ”হাত সংযত রাখো- অর্থাৎ চরম ধৈর্য ধারণ করো”। কাজেই স্পষ্ট প্রতিয়মান হচ্ছে যে, শুধুমাত্র কুরআন ও সুন্নাহ’র ধারাবাহিক জ্ঞানের অভাবেই এ সকল বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কুরআন ও সুন্নাহ’র ধারাবাহিক জ্ঞান অর্জিত হলেই সকল বিভ্রান্তি দূর হবে এবং মানব জাতির সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সমগ্র জীবন পরিচালনার জন্য সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত আইন-বিধান সম্বলিত পরিপূর্ণ ও কল্যাণকর একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশ্বের সকল কিছুর এবং সকল মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত আইন-বিধান সম্বলিত ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলেই জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের মৌলিক সকল অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে, ফলে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠিত হবে, শোষণমুক্ত অর্থনীতি এবং সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে; সকল মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের জান, মাল, ইজ্জত ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।  আর তখনই “রাষ্ট্র হবে সবার, ধর্ম হবে যার যার”।

দুনিয়ার জীবনে সকল অধিকার প্রাপ্তির মাধ্যমে শান্তি ও কল্যাণ লাভ এবং আখিরাতে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে চির সুখের স্থান জান্নাত লাভ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত আইন-বিধান সম্বলিত জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করার চূড়ান্ত চেষ্টা করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠিত হলে ‘ইসলাম’এর বিধান অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উল্লেখযোগ্য যে, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠিত না থাকাকালীন সময়ে নিজ অর্থ সম্পদ ও সময় ব্যয়ের করে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করাই আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের উপায় এবং ঈমানদারদের কঠিন আযাব থেকে বাঁচার ব্যবসা। বর্তমান বিশ্বের কোন একটি রাষ্ট্রই “ইসলামী রাষ্ট্র” নয় অর্থাৎ সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত নেই। বিশ্বের দু একটি রাষ্ট্রে মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানুষের কর্তৃত্বের অধীনে ইসলামের কিছু আইন কার্যকর থাকলেও তা মূলতঃ “দারুল কুফর”, কুফরী ও র্শিকী রাষ্ট্র। কারণ, মানুষের সার্বভৌমত্বের ধারক বাহক নেতৃত্বের ইচ্ছাধীন ইসলামের আইনগুলো সমাজে চালু আছে; এটাও মানব রচিত ব্যবস্থা। গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ইত্যাদি সবই মানুষের সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে মানব রচিত ব্যবস্থা। যা মেনে নিলে সকল আমল হবে বিনষ্ট এবং জান্নাত হারাম হয়ে জাহান্নামের আগুনেই হবে স্থায়ী ঠিকানা। বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভ করতে হলেÑ ইসলামের মৌলিক তিনটি বিষয় গ্রহণ করে ঘোষণা ও অঙ্গীকার করে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁর আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতিনিধিত্বকারী নেতা বা আমীরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চেষ্টার কোন বিকল্প নেই।

কুরআন ও সুন্নাহ’র ধারাবাহিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সেই অনুযায়ী চললেই “ইসলাম ও ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নিয়ে” সকল বিভ্রান্তি দূর হবে এবং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত আইন-বিধান সম্বলিত একমাত্র পরিপূর্ণ ও কল্যাণকর জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে। আল্লাহ্র অসীম অনুগ্রহে কুরআন ও সুন্নাহ’র ধারাবাহিক জ্ঞানের ভিত্তিতে মানব জাতির সার্বিক কল্যাণে “ইসলামী সমাজ” আল্লাহ্র সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতিনিধিত্বকারী নেতা “ইসলামী সমাজ”এর আমীর সৈয়দ হুমায়ূন কবীরের নেতৃত্বে আল্লাহ্’র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে তথা মানুষের বাস্তব জীবনে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। “ইসলামী সমাজ” এর সদস্যগণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সবর (ধৈর্য্য) ও ক্ষমার নীতিতে অটল থেকে একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্ঠির জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার “মানবিক ও ঈমানী দায়িত্ব” পালন করে যাচ্ছে। নিজের ও মানবতার সার্বিক কল্যাণে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে- “ইসলামী সমাজ” পরিচালিত এই মহতী প্রচেষ্টায় শামিল হয়ে আল্লাহ্’র সন্তুষ্টি অর্জনে ভূমিকা রাখার জন্য সকলকে আন্তরিক অনুরোধ করছি।

সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন’ই আমাদের একমাত্র সহায় ও সাহায্যকারী, আমরা তাঁর’ই উপর পূর্ণ ভরসা করছি। আমীন!

সকলের সার্বিক কল্যাণ প্রত্যাশী

আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল

ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেবষক ও লেখক

সংকলকঃ আল কুরআনে আল্লাহর পরিচয়, নির্দেশ ও প্রতিশ্রুতি

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *