“ইসলাম” সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবেই উগ্রতা ও জঙ্গিতৎপরতাসহ বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি চলছে-

“ইসলামী সমাজ” এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, “ইসলাম” সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবেই উগ্রতা ও জঙ্গিতৎপরতাসহ বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি চলছে; সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতে আল্লাহর নির্দেশিত এবং তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার ও প্রতিষ্ঠিত রাখার লক্ষ্যে ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালনই সকল বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। তিনি বলেন, ‘ইসলাম’ হচ্ছে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ প্রদত্ত মানব জাতির সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সমগ্র জীবন পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন-বিধান সম্বলিত কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা।, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠিত না থাকলে আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে আল্লাহরই সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে সময় ও অর্থ কুরবানীর মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে “ইসলাম” প্রতিষ্ঠার এবং প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতিষ্ঠা রাখার চুড়ান্ত চেষ্টা করাই ঈমানদার মুসলিম ব্যাক্তিদের সর্বাধিক গুরুত্বপুর্ণ ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। কোন ঈমানদার ব্যক্তি এ দায়িত্ব পালনে উদাসীন থাকতে পারে না।
ঢাকা মহানগরীর দায়ীত্বশীল জনাব মুহাম্মাদ ইয়াছিনের পরিচালনায় “ইসলামী সমাজ” এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব সংলগ্ন রাস্তায় আজ ০২-০৮-২০১৬ ইং রোজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উগ্রতা ও জঙ্গীতৎপরতাসহ সকল অপতৎপরতা নির্মূল করে সু শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ‘জাতীয় ঐক্য গঠনে’ অনুষ্ঠিত “মানব বন্ধনে” ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, মক্কা, আরব দেশ এবং সমগ্র পৃথিবীতে মানুষের জীবনে মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানব রচিত আইন-বিধান প্রতিষ্ঠিত থাকাকালীন সময়ে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক আল্লাহর নির্দেশে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁরই সর্বশেষ নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদেরকে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতি ঈমান আনার, একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব, আনুগত্য ও উপাসনা গ্রহনের এবং তাঁকে আল্লাহর রাসূল মেনে একমাত্র তাঁরই শর্তহীন অনুসরণ ও অনুকরণের আহ্বান জানান, দাওয়াত দেন। এ সকল দাওয়াতের প্রেক্ষিতে দাওয়াত কবুল করে “রাব্বুনাল্লাহু বা আল্লাহু আকবার” ঘোষণা এবং “আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ” অঙ্গীকার করে যারা ঈমানদার ও মুসলিম হয়ে রাসূলের সাথী হলেন, তাদের নিয়ে রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর নিজ নেতৃত্বে ও আনুগত্যে আবু জাহিল গংদের নেতৃত্বে পরিচালিত সমাজ এর বিপরীতে ঈমানদারগণের সমাজ গঠন আন্দোলন গড়ে তুললেন। এভাবে দাওয়াতের মাধ্যমে ঈমানদারগণের সমাজ গঠন আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আবু জাহিল গংদের সাথে রাসূল (সাঃ) এবং ঈমানদারদের একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতি ঈমানের বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কারণ মক্কায় তখন মানুষের সমাজ জীবনে আবু জাহিল গংদের তথা মানুষেরই সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত ছিল। একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতি ঈমানের কারণেই মক্কায় আবু জাহিল গংরা রাসূল (সাঃ) ও তাঁর  সাহাবীদের উপর বিভিন্ন রকমের নির্যাতন চালিয়েছিল। কিন্তু সকল প্রকার নির্যাতনের প্রেক্ষিতে মাক্কী জীবনের তের বছরে ঈমানদারগণের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ ছিল হাত সংযত রাখ, ছবর ও ক্ষমার নীতিতে অটল থেকে ঈমানে দৃঢ় থাক, সালাত ও কুরআনের অহী তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঈমান ও চরিত্রের উন্নতি সাধন এবং আল্লাহর বিশেষ সাহায্যের প্রার্থনা করতে থাক এবং সকল অবস্থায় ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে অহীর প্রচার এবং ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত লোকদের দিতেই থাক। আল্লাহর নির্দেশ যথাযথ পালনের মাধ্যমে রাসূলের (সাঃ) নেতৃত্বে যখন একদল ঈমানদার সৎকর্মশীল লোক গঠন ও ঈমানের সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মদীনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে রাসূল (সাঃ) তথা ঈমানদারদেরকে মদীনায় রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা (খিলাফত) দান করলেন। এটাই সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভের আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসূল (সাঃ)  প্রদর্শিত একমাত্র পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতেই “ইসলামী সমাজ” সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মদীনায় রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভের আগে নয় বরং পরেই রাসূল (সাঃ) বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষের সার্বিক কল্যাণে সশস্ত্র যুদ্ধ (কিতাল) করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবীগণ সবসময় একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীনে থেকেই আল্লাহর হুকুম পালন করেছেন। ‘ইসলাম’ এর ধারাবাহিক এ জ্ঞানের অভাবেই বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিতে ডুবে মহা ক্ষতিতে নিমজ্জিত আছে।
সংগঠনের আমীর বলেন, মানুষের সার্বভৌমত্বের অধীনে থেকে নামাজ ও রোযাসহ ইসলামের কিছু আমল করে নিজেকে ঈমানদার ও মুসলিম ভাবা এবং জান্নাতের স্বপ্ন দেখা চরম বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্রের অধীনে জোট, ভোট ও নির্বাচন করাও চরম বিভ্রান্তি। কারণ গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন মানুষের সার্বভৌমত্ব মেনেই করতে হয়, যা মূলত সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাথে কুফর ও শিরক। ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভের জন্য কিতালের নামে উগ্রতা জঙ্গিতৎপরতা, বোমাবাজি ও  মানুষ হত্যা করা মূলতঃ সন্ত্রাসবাদ, ইসলাম নয়। সুতরাং এ পদ্ধতি যারা গ্রহন করেছেন তারা সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতির পরিবর্তে নিজস্ব মত চালু করে মূলতঃ রব্বের স্থান দাবী করে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন এবং ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার নামে শিরকে আক্বারে লিপ্ত হয়েছেন, যার পরিণতি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেন, উপরোক্ত জ্ঞানের ভিত্তিতে স্পষ্ট যে, মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানব রচিত ব্যবস্থার আনুগত্য স্বীকার করে এবং অধীনে থেকে  ইসলামের আইন-বিধান পালনের মাধ্যমে যত আমলই করা হবে, তা গ্রহনযোগ্য হবে না বরং সকল আমলই বিনষ্ট হয়ে জাহান্নামই হবে ঠিকানা। এ সকল বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার জন্য এবং উগ্রতা ও জঙ্গীতৎপরতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাসসহ সকল অপতৎপরতা নির্মূল করে মানুষের জীবনে সু শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনে দল, মত নির্বিশেষে দেশবাসী সকলকে তিনি “ইসলামী সমাজে” শামিল হয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের আন্তরিক আহ্বান জানান।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *