করোনা ভাইরাসের আক্রমণ মূলতঃ মানুষের কৃতকর্মের দরুন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের বিশেষ আযাব-গজব এ আযাব-গজবসহ সকল প্রকার বিপদ-আপদ এবং বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ লাভের একমাত্র উপায় হচ্ছে তাঁরই নিকট পরিপূর্ণ আত্মসমর্পন।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্!

প্রিয় দেশ ও বিশ্ববাসী ভাই এবং বোনেরা,
করোনা ভাইরাসের আক্রমণ মূলতঃ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজবের’ই অংশ। এটা মানুষের কৃতকর্মের দরুন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের বিশেষ আযাব-গজব। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর মহান রব্ব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ এ আযাব-গজবটি উঠিয়ে নিবেন। এ আযাব-গজব প্রতিরোধ ও মোকাবেলা করা সম্ভব নয়! তাই সকল মানুষের উচিত কৃতকর্মের জন্য আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং এ আযাব-গজব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য “মানব রচিত ব্যবস্থাসহ সকল প্রকার দুর্নীতি ও অপরাধ থেকে তাওবা করে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতি ঈমানের ভিত্তিতে ইসলামের আইন-বিধান মেনে চলা”। মানব রচিত সকল ব্যবস্থাই জাহিলিয়্যাত। মানব রচিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আল্লাহর পরিবর্তে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে মানুষের’ই মনগড়া আইন-বিধানের আনুগত্য স্বীকার করা হয়। সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব মেনে না নেওয়া এবং আল্লাহর আইন-বিধানের আনুগত্য না করা চরম কুফর। অপরদিকে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মানুষের মেনে নেওয়া এবং মানুষের মনগড়া আইন-বিধানের আনুগত্য স্বীকার করা মারাত্মক শির্ক। এ ধরনের কুফর এবং শির্ক থেকেই অন্যান্য সকল অপরাধের উৎপত্তি হয় এবং বিস্তার লাভ করে। কুফর ও শির্ক ত্যাগ না করলে এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতি ঈমান এনে তাঁর প্রদত্ত কল্যাণকর জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলামের’ আইন-বিধান মেনে না চললে আল্লাহর আযাব-গজব থেকে বাচাঁ আদৌ সম্ভব নয়। আল্লাহ্ বলেন, “যে বিপদ-আপদই তোমাদের উপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই” (আশ্ শুরা: ৩০)। আল্লাহ্ আরো বলেন, “মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পরেছে, আল্লাহ্ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে” (রুম: ৪১)। (ইবনে মাজাহ্ ৪০১৯) নং হাদিস থেকে জানা যায়, মানুষ যখন প্রকাশ্য ভাবে নৈতিকতা বিরোধী ও বিভিন্ন রকম অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয় এবং জড়িয়ে যায় তখনি তাদের উপর নতুন ধরনের মহামারি দেখা দেয় যা ইতিপূর্বে দেখা দেয়নি। শির্ক ও কুফরের কারণেই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন মানুষের উপর বিভিন্ন রকম আযাব-গজব দিয়ে তাদের কৃত অপরাধের স্বাদ আস্বাদন করান, যাতে তারা কুফর এবং শির্ক ত্যাগ করে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে ঈমানের ভিত্তিতে আমল সংশোধন করে নেয়। মানুষকে আখেরাতের জীবনে মহা আযাব থেকে রক্ষার লক্ষ্যে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন দুনিয়ার জীবনে তাদেরকে লঘূ আযাব আস্বাদন করান, যাতে তারা পাপাচার থেকে তথা শির্ক ও কুফর থেকে প্রত্যাবর্তন করে । আল্লাহ্ বলেন, “ মহা আযাবের পূর্বে আমি অবশ্যই তাদেরকে লঘূ আযাব আস্বাদন করাবো, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে” (আস সাজদা: ২১)। কুফর ও শির্কে অবস্থান করে বস্তুগত সতর্কতা যতই অবলম্বন করা হোক না কেন গজব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। চলমান করোনা ভাইরাসের আক্রমণ আল্লাহর ইচ্ছায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর চলে যাবে, চলে গেলেও মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে জীবন যাপন করতে থাকলে পুনরায় তার চেয়ে ভয়াবহ আযাব-গজব মানুষের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে আল্লাহ্র আযাব-গজব প্রতিরোধ বা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। প্রতিরোধের চিন্তায় বিভিন্ন রকম তৎপরতা চালাতে থাকলে মানুষের জীবনে বিপর্যয় বেড়েই চলবে। “করোনা ভাইরাস জনিত মহামারি মূলতঃ বিশ্ববাসীর জন্য মানব রচিত ব্যবস্থা ত্যাগ করে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ প্রদত্ত ব্যবস্থা ‘ইসলামের’ ভিত্তিতে জীবন গড়ার লক্ষ্যে বিশেষ সতর্ক বার্তা”। এ সতর্ক বার্তা সত্বেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষমতাসীনগণ মানব রচিত ব্যবস্থা তথা কুফর ও শির্কের অধীনে থেকেই বিভিন্ন রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার কারণে বিশ্ববাসীর জন্য ভবিষ্যতে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের আরো ভয়াবহ আযাব-গজব অপেক্ষা করছে।
করোনা ভাইরাস সহ সকল প্রকার বিপদ-আপদ এবং বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ লাভের একমাত্র উপায় হচ্ছে:
করোনা ভাইরাস ও এর আক্রমন থেকে বাঁচতে অহেতুক আতঙ্ক ত্যাগ করে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের নিকট পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তাঁরই ভয়ে ভীত হয়ে নিম্মে বর্নিত বিষয়গুলো মেনে জীবন গঠন ও পরিচালনা করুন।
(০১) সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় “মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব” ত্যাগ, অস্বীকার ও অমান্য করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে “সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর গ্রহণ করে এর ঘোষণা করুন রাব্বুনাল্লাহু বা আল্লাহু আকবার”।
(০২) সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় “মানুষের দাসত্ব ও মানুষের মনগড়া আইন-বিধান বা সংবিধানের আনুগত্য” ত্যাগ ও অস্বীকার করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে “একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও উপাসনা গ্রহণ করে এর সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করুন আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু”।
(০৩) সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় “মানুষের মনগড়া আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতা বা সরকারের আনুগত্য” ত্যাগ ও অস্বীকার করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে “একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শর্তহীন আনুগত্য- অনুসরণ ও অনুকরণ গ্রহণ করে এর সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করুন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্”।
(৪) উপরোক্ত বিষয়গুলোর ভিত্তিতে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে আল্লাহর’ই সার্বভৌমত্ব্রে অধীনে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বের আনুগত্যে নিজের সময় ও অর্থ কুরবানির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকুন।
(৫) কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং সালাত ও কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আযাব-গজব থেকে বাচাঁর জন্য আল্লাহর’ই রহমত ও বিশেষ সাহায্য লাভে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দোয়া করতে থাকুন এবং সর্বাবস্থায় মহান রবের জন্য ধৈর্য ধারন করুন।
উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলার সাথে সাথে নিম্মে বর্নিত উপায়গুলো অবলম্বন করুন:
 জ্বর, সর্দি, কাশি হলে- কর্মস্থলে না গিয়ে বাসায় অবস্থান করুন, গণপরিবহন ও জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলুন, অন্যের সাথে যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং হাত মিলানো ও আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন।
 দ্রুত সংক্রামক এ ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে মাস্ক ব্যবহার করুন।
 কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় কনুই অথবা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন এবং হাত দ্বারা মুখ, নাক ও চোখে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
 নিয়মিত ভাবে সাবান অথবা বেজ্ড হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন এবং অসুস্থ বোধ করলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।

দেশ ও বিশ্বের এ নাজুক পরিস্থিতিতে সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে এবং ভাইরাসে আক্রান্ত লোকদের যথাযথ সেবা প্রদানে দলীয় সংকীর্নতার ঊর্ধে উঠে সকলের একযোগে দায়িত্ব পালন করা উচিৎ। এটা আমাদের সকলের জন্য ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
সরকার এবং প্রশাসনের উচিৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখা এবং জনসাধারণের সার্বিক কল্যাণে ও বিশেষভাবে দরিদ্র জনগণের প্রয়োজন পূরনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অর্থ সম্পদশালী সকল সামর্থবানদের উচিৎ দরিদ্র জনগণ সহ সকলের কল্যাণে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানসহ সার্বিক সহযোগীতায় এগিয়ে আসা।

স্বস্থ্য সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও অন্যান্য সকলের উচিত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান এবং সরকারের উচিত যথাযথ উপাদানের সু-ব্যবস্থা করে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগীতা প্রদান করা।

আমরা ইসলামী সমাজের নেতাকর্মীগণ ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের সাথে আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহ পোষণ করছি।
সর্বশক্তিমান এবং সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক আল্লাহই আমাদের একমাত্র সহায় ও সাহায্য কারী। সকলকে তিনি সকল প্রকার আযাব-গজব থেকে রক্ষা করে সার্বিক কল্যাণ দান করুন। আমীন
সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণ কামনায়-

আল্লাহর’ই সার্বভৌত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানে প্রতিনিধিত্বকারী নেতা-                 

                                                                             সৈয়দ হুমায়ূন কবীর
                                                                                                      আমীর, ইসলামী সমাজ।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *