কুরআন-সুন্নাহর আলোকে “করোনা ভাইরাসের” আক্রমণসহ সকল প্রকার আযাব-গজব থেকে বাচাঁর লক্ষ্যে একমাত্র করণীয়

                                                            বিতাড়িত অভিশপ্ত শয়ত্বানের কু-মন্ত্রণা হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে
                                                                               অতিশয় মেহেরবান ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ!
প্রিয় দেশ ও বিশ্ববাসী ভাই এবং বোনেরা,
সকল প্রসংশা একমাত্র আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম পেশ করছি আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)এর উপর এবং সকল মানুষের জন্য সার্বিক কল্যাণের দোয়া করে বিশ্ববাসীকে স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে, করোনা ভাইরাসের আক্রমণ মানুষেরই কৃত অপরাধের কারণে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের একটি বিশেষ আযাব-গজব।
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সকল প্রকার আযাব-গজব থেকে রক্ষা পেয়ে তাঁরই রহমত ও বিশেষ সাহায্য লাভের একমাত্র পথ হচ্ছে “ইসলাম”। অপরদিকে গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা মূলতঃ আযাব-গজবেরই পথ। মানুষের সমাজ, রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনা সহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়- এটাই মূলত আল্লাহর প্রতি ঈমান। ঈমানের ফলশ্রুতি জীবনের সকল ক্ষেত্রে দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা একমাত্র আল্লাহর এবং শর্তহীন আনুগত্য- অনুসরণ ও অনুকরণ একমাত্র হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর, অন্য কারো নয়। এসবই ইসলামের মৌলিক বিষয়
মুসলিম পরিচয় দানকারীগণসহ বিশ্বের সকল মানুষ দীর্ঘকাল পর্যন্ত তাদের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মানব রচিত ব্যবস্থা মেনে চলার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর অমান্য করে মানুষের মেনে চলছে এবং দাসত্ব, আইনের আনুগত্য আল্লাহর ত্যাগ করে মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্য স্বীকার করে মানুষেরই দাসত্ব করছে এবং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পরিবর্তে মানুষের মনগড়া আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের অনুসরণ ও অনুকরণে বন্দি হয়ে আছে, যার কারণে তারা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে নেই এবং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাথে ও তাঁর ইবাদাতের সাথে কুফর এবং শির্কে নিমজ্জিত হয়ে আছে অর্থাৎ আল্লাহর চরম অবাধ্যতা এবং তাঁরই সাথে সমকক্ষ গন্য করছে, যার পরিণতি দুনিয়ায় অকল্যাণ, অশান্তি ও আখিরাতে স্থায়ী ঠিকানা জাহান্নাম। বর্তমানে বিশ্বের মানুষ মানব রচিত ব্যবস্থা মেনে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ ও তাঁর ইবাদাতের সাথে কুফর আর শিরকে লিপ্ত হয়ে নৈতিকতা ও মানবতা বিরোধী অপরাধসহ বহুরকম দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং অশ্লীল কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ার কারণেই করোনা ভাইরাসের আক্রমণসহ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের বিভিন্ন রকম আযাব-গজবের শিকার হয়ে তারা চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় দুর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে । সূরা ফাতিরের ৩৯ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন, “কুফরকারীদের কুফরী কেবল তাদের রবের ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কুফরকারীদের কুফরী তাদের জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না”। শির্ককারীদের বিষয়ে সূরা আনআমের ৬৫ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলেন, “তিনি তোমাদের উপর তোমাদের উপরের দিক থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আযাব পাঠাতে অথবা তোমাদের দল-উপদলে বিভক্ত করে একদলকে আরেক দলের স্বাদ গ্রহণ করাতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম”। মানব রচিত ব্যবস্থা মেনে চলা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে নিশ্চিত চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম। মানব রচিত ব্যবস্থা ত্যাগ না করে বিশ্বের মানুষ করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য যত চেষ্টাই করুক না কেন তাদের সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হবে। করোনা ভাইরাসের আক্রমণ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনেরই বিশেষ আযাব-গজব বিধায়; তিনি ব্যতীত কেউ এর আক্রমণ ঠেকাতে পারবে না। আমাদের দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে, আযাব-গজবের মোকাবেলা ও প্রতিরোধ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। উক্ত বিশেষ আযাব-গজবে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন যাদেরকে আক্রান্ত করবেন তারই আক্রান্ত হবে, হচ্ছে এবং যাদের মৃত্যুর ফায়সালা করবেন তারাই মৃত্যু বরণ করবে, করছে আর যারা আক্রান্ত হবে না কিংবা আক্রান্ত হয়েও বেচেঁ থাকবে- মানব রচিত ব্যবস্থা ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ না করলে তারাও ভবিষ্যতে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের আরও ভয়াবহ আযাব-গজবের শিকার হবে। মুসলিম পরিচয় দানকারী লোকদের মধ্যে যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মানুষের সার্বভৌমত্ব এবং মানব রচিত ব্যবস্থা অস্বীকার ও অমান্য করেনি তারাও মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে আছে বিধায় ইসলামে নেই, এমতাবস্থায় সহীহ্ আমল ও দোয়া করে আল্লাহর আযাব-গজব থেকে তাঁরাও রক্ষা পাবে না।
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজব থেকে রক্ষা পেয়ে দুনিয়ায় কল্যাণ, শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে- মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানব রচিত ব্যবস্থা ত্যাগ করে আল্লাহ্ প্রদত্ত কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলামের’ আইন-বিধান মেনে চলা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর নির্দেশিত ও তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা করা।
করোনা ভাইরাসসহ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সকল আযাব-গজব থেকে রক্ষা পেয়ে দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ, শান্তি এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভের লক্ষ্যে- দেশ ও বিশ্বাবাসী সকলের প্রতি আমাদের আন্তরিক আহবাণ-
আপনারা, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় “মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব” ত্যাগ, অস্বীকার ও অমান্য করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে “সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর গ্রহণ করে ঈমানের ঘোষণা করুন রাব্বুনাল্লাহু বা আল্লাহু আক্বার” এবং “মানুষের দাসত্ব ও মানুষের মনগড়া আইন-বিধান বা সংবিধানের আনুগত্য” ত্যাগ ও অস্বীকার করে “একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও উপাসনা গ্রহণ করে ইসলামের সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করুন আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” এবং “মানুষের মনগড়া আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতা বা সরকারের আনুগত্য” ত্যাগ ও অস্বীকার করে “একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শর্তহীন আনুগত্য- অনুসরণ ও অনুকরণ গ্রহণ করে ইসলাম বাস্তবায়নের সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করুন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্”।
ঈমানের ঘোষণা, ইসলাম ও ইসলাম বাস্তবায়নের অঙ্গীকরের ভিত্তিতে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে আল্লাহরই সার্বভৌমত্বর অধীনে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বের আনুগত্যে নিজের সময় ও অর্থ কুরবানীর মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকুন।
কৃত সকল অপরাধের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সালাত ও কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আযাব-গজব থেকে বাচাঁর লক্ষ্যে আল্লাহর’ই রহমত ও বিশেষ সাহায্য লাভের জন্য কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দোয়া এবং সর্বাবস্থায় মহান রবের সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারন করুন এবং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা অবলম্বনে-
জ্বর, সর্দি, কাশি হলে- কর্মস্থলে না গিয়ে বাসায় অবস্থান করুন, গণপরিবহন ও জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলুন, অন্যের সাথে যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং হাত মিলানো ও আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকুন।
দ্রুত সংক্রামক এ ভাইরাস থেকে নিজেকে এবং অপরকে নিরাপদ রাখতে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করুন।
কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় কনুই অথবা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন এবং হাত দ্বারা মুখ, নাক ও চোখে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
নিয়মিত ভাবে সাবান অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন এবং অসুস্থ বোধ করলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।
দেশ ও বিশ্বের এ নাজুক পরিস্থিতিতে সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে এবং ভাইরাসে আক্রান্ত লোকদের যথাযথ সেবা প্রদানে দলীয় সংকীর্নতার ঊর্ধে উঠে সকলে একযোগে দায়িত্ব পালন করুন। এটা আমাদের সকলের জন্য ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।

সরকার এবং প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সাথে সাথে জনসাধারণের সার্বিক কল্যাণে ও বিশেষভাবে দরিদ্র জনগণের প্রয়োজন পূরনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
অর্থ সম্পদশালী সকল সামর্থবান ব্যক্তিগণ দরিদ্র জনগণ সহ সকলের কল্যাণে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানসহ সার্বিক সহযোগীতায় এগিয়ে আসুন।
স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকলে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী আন্তরিকভাবে আক্রান্ত লোকদেরকে সেবা প্রদান করুন এবং সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ উপকরণরে সু-ব্যবস্থা করে তাদেরকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগীতা প্রদান করতে থাকুন।

আমরা ইসলামী সমাজের নেতা, কর্মীগণ ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের সাথে আন্তরিকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত আছি এবং “ইসলামী সমাজ” দেশের চলমান নাজুক পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত লোকদের যথাসম্ভব সহযোগীতা প্রদানে অর্থ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইসলামী সমাজের অর্থ তহবিলে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সহযোগীতা করার জন্য আন্তরীক আহবাণ জানাচ্ছি।

সর্বশক্তিমান এবং সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক আল্লাহই আমাদের একমাত্র সহায় ও সাহায্যকারী। সকলকে তিনি সকল প্রকার আযাব-গজব থেকে রক্ষা করে সার্বিক কল্যাণ দান করুন। আমীন। সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণ কামনায়:
আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনেরই বান্দাহ্ এবং তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধি-
                                                                                                                         সৈয়দ হুমায়ূন কবীর
                                                                                                                               আমীর ইসলামী সমাজ।
                                                                                                                           মোবাইলঃ ০১৭২১-০৭১০৩৫

                                                            ইসলামী সমাজের অর্থ তহবিলে সহযোগীতা প্রদানের জন্য যোগাযোগ করুন-

                                                           বিকাশ নম্বর ০১৯২৭-৩৮৬৫১৫, ০১৮১১-৬৫০৬২৮, ০১৯৪৫-৩৪১৫৬৫

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *