গণতন্ত্রসহ মানব রচিত সকল ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হোন। আমীর ইসলামী সমাজ।

ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, আমাদের প্রান প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে জনগণের সার্বভৌমত্বের নামে দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত দলীয় নেতাদের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব চলছে এবং মানুষের মনগড়া সংবিধানের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দানকারী নেতাদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের পরিবর্তে গণতন্ত্রের নামে মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় জাতির মানুষ বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষে লিপ্ত। সরকারি দল এবং বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের আক্রমনাত্তক বক্তব্য থেকে দেশে ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষের সম্ভাবনা প্রতিয়মান হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তাই তিনি দেশবাসি সকলকে মানব রচিত ব্যবস্থা ত্যাগ করে, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর” এ মহাসত্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

আজ ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২; (বুধবার) বিকাল ৩ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ইসলামী সমাজ চট্টগ্রাম বিভাগীয় অঞ্চল-১ এর দায়িত্বশীল, জনাব আজমুল হকের সঞ্চালনায় “মানব রচিত ব্যবস্থার মূলোৎপাটন এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার উপায়” বিষয়ে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় উপস্থিত জনতা এবং দেশবাসী সকলের উদ্দেশ্যে সংগঠনের আমীর বলেন, গণতন্ত্রের অধীনে জোট-ভোট ও নির্বাচন কিংবা সন্ত্রাস-বোমাবাজি, উগ্রতা, জঙ্গীতৎপরতা সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নয়। তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশিত পথে তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর নেতৃত্বে যখন একদল ঈমানদার সৎকর্মশীল লোক তৈরী হয়েছিল তখনি আল্লাহ তাদেরকে মদীনায় খিলাফত- রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দান করেছিলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে আল্লাহরই সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বে ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীনে একদল ঈমানদার সৎকর্মশীল লোক তৈরী হলেই আল্লাহ বাতিল নেতাদেরকে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব থেকে হটিয়ে ঈমানদারদেরকে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দান করবেন। এটাই সামাজ ও রাষ্ট্র থেকে মানব রচিত ব্যবস্থা মূলোৎপাটন করে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব লাভের রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতি। এভাবে আমীরের নেতৃত্বে ঈমানদারগণ রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভ করলেই সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসরণ ও অনুকরণে পর্যায়ক্রমে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান চালু হলে মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার পাবে এবং মানুষ জনা-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা পাবে। তিনি আরো বলেন, ইসলামী সমাজ আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলামী সমাজ পরিচালিত ইসলাম প্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শামিল হয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলার আহবান জানান।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামী সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা- জনাব আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল, মুহাম্মাদ ইয়াছিন, সোলায়মান কবীর, মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা ও আসাদুজ্জামান বুলবুল প্রমুখ।

 

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published.