গণতন্ত্র দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করার কারণেই দেশ স্বাধীনের ৫১ বছরেও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমীর, ইসলামী সমাজ।

ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, আজ থেকে প্রায় ৫১ বছর পূর্বে স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকার এবং তাদের লেলিয়ে দেওয়া সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানীর পরিচালনায় জিয়াউর রহমানসহ বহু সেনা কর্মকর্তার সক্রিয় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে এদেশের গণমানুষের সমর্থন ও সহযোগিতায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ নয় মাস প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে লক্ষ লক্ষ প্রাণ আর রক্তের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। স্বাধীনতার পর থেকে এদেশে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক হত্যাকান্ডসহ বিচার বহির্ভূত বহু হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে এবং বর্তমানে দেশ ও জাতির মানুষ দু’টি শিবিরে বিভক্ত হয়ে ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষের মুখোমুখী অবস্থান করছে। জাতীয় জীবনে নৈতিক অবক্ষয় এবং অর্থনৈতিক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করছে। ফলে জাতির মানুষের দুনিয়ার জীবনে চরম অশান্তি বিরাজ করছে এবং তাদের আখিরাতের জীবনও মহা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
আজ ০৫ নভেম্বর, ২০২২; (শনিবার) বিকাল ৩ ঘটিকায় ইসলামী সমাজের উদ্যোগে “দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর পর জাতির মানুষ দু’টি শিবিরে বিভক্ত হয়ে ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষের মুখোমুখী এহেন নাজুক অবস্থার কারণ এবং এ থেকে রক্ষা পেয়ে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় করণীয়” বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতা জনাব মুহাম্মাদ সেলিম মোল্লা’র সঞ্চালনায় রাজধানী ঢাকা’র যাত্রাবাড়ী আইডিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সামনের রাস্তায় অনুষ্ঠিত “শান্তি সমাবেশে” ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, দূর্নীতি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য জাতির মানুষের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে এবং ধর্মের নামেও সন্ত্রাস, উগ্রতা ও জঙ্গিবাদী অপতৎপরতার বিস্তার ঘটছে। তিনি আরও বলেন, মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্র দিয়ে রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনা করার কারণেই দীর্ঘ ৫১ বছরেও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং চরম অশান্তি বিরাজ করছে, রাজনীতির নামে মানুষে মানুষে সংঘাত ও সংঘর্ষ চলছে, সংঘাত ও সংঘর্ষের মাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। হিংষা-প্রতিহিংষা এবং মানবতা বিরোধী অপতৎপরতা ক্রমেই বেড়ে চলছে, দূর্বলের উপর শক্তিমানের শোষন ও জুলুম চলছে, ক্ষমতাসীনদের লুট-পাট ও অরাজকতা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করছে। গণতন্ত্রের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোন মূহুর্তে সরকার ও সরকার বিরোধীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে- একথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংঘাত ও সংঘর্ষের কারণে জাতীয় জীবনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এবং চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেল সংকট দেখা দিয়েছে এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনে সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে হলে গণতন্ত্রের নামে দেশে চলমান সংঘাতময় রাজনীতির মূলোৎপাটন করতে হবে এবং সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা ইসলাম আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্যেই “ইসলামী সমাজ” সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সংগঠনের আমীর বলেন, ‘ইসলামী সমাজ’ সকলের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তিনি দল, মত নির্বিশেষে সকলকে ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী, নৈতিক ও মানবকি দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
‘ইসলামী সমাজ’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর দায়িত্বশীল জনাব মোঃ সোহেল এর সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- ইসলামী সমাজ এর কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল, জনাব মুহাম্মাদ ইয়াছিন, মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, সৈয়দ মুহাম্মাদ কবীর, আবু জাফর মুহাম্মাদ সালেহ্ এবং ইসলামী সমাজ এর সদস্য, জনাব আব্দুল হক ও আব্দুল করীম প্রমুখ।

 

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *