গণতন্ত্র মেনে জাতির মানুষ দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষে লিপ্ত। আমীর, ইসলামী সমাজ।

ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশে^র প্রতিটি রাষ্ট্রে রাজনীতির নামে মানুষে মানুষে সংঘাত চলছে এবং সংঘাতময় রাজনীতির কারণে মানুষের জীবনে চরম অশান্তি দেখা দিয়েছে। রাজনীতির নামে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্র মেনে চলার কারণে জাতির মানুষ বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষের পথে চলছে। যার কারণে তাদের আখিরাতের জীবন মহাক্ষতির সম্মুখীন। দেশ স্বাধীনের প্রায় ৫১ বছর পর গণতন্ত্রের অধীনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার এবং সরকার বিরোধীরা ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষের মুখোমুখি অবস্থান করছে। উভয় পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষ শুরু হলে জাতীয় জীবনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেল সংকট দেখা দিয়েছে এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনে সংকট মারাত্মক আকার ধারন করেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের নামে সরকার ও সরকার বিরোধীরা জাতীয় জীবনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

আজ ২৮ নভেম্বর, ২০২২; (সোমবার) বিকাল ৩ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইসলামী সমাজের উদ্যোগে “দেশে চলমান সংঘাতময় অবস্থার কারণ এবং এ থেকে বাঁচার উপায়” বিষয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা, জনাব আবু জাফর মোহাম্মাদ সালেহ্’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত “শান্তি সমাবেশে” ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য জাতির মানুষের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে এবং ধর্মের নামেও সন্ত্রাস, উগ্রতা ও জঙ্গিবাদী অপতৎপরতার বিস্তার ঘটছে। গণতন্ত্র তথা মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী সকল প্রকার নেতৃবৃন্দকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবাজ নেতাদের নেতৃত্বে দূর্বলের উপর শক্তিমানের শোষন ও জুলুম চলছে, ক্ষমতাসীনদের লুট-পাট ও অরাজকতা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করছে। তিনি বলেন, দেশে চলমান সংঘাতময় অবস্থা এবং সকল প্রকার ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়ে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষ মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হলে সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এ লক্ষ্যেই “ইসলামী সমাজ” সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সংগঠনের আমীর বলেন, ‘ইসলামী সমাজ’ সকলের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল। দল, মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি সংঘাত ও সংঘর্ষের পথ পরিত্যাগ করে ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার ঈমানী, নৈতিক ও মানবকি দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
শান্তি সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- ইসলামী সমাজ এর কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলগণ।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *