গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র- স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে  ইসলামী সমাজের আলোচনা সভা সুসম্পন্ন।

ইসলামী সমাজের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধান প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার কারণেই দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছরেও দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও শোষণ মুক্ত সমাজ গঠন হয়নি। মানুষের সার্বভৌমত্ব এবং মানব রচিত ব্যবস্থা চরম দুর্নীতি একথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার সুযোগ রেখে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধান মানুষের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হলেই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, জঙ্গীবাদ, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও শোষণ মুক্ত সমাজ গঠিত হবে। 
ইসলামী সমাজের সদস্য হযরতুল আল্লাম মুহাম্মাদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আজ ২৬ শে মার্চ ২০১৯ ইং মঙ্গলবার বিকাল ৪ ঘটিকায় গাজীপুর মহানগর, চান্দনা চৌরাস্তা সংলগ্ন ঈদগাহ মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা, পশ্চিম পার্শে¦ ঐতিহাসিক স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, জঙ্গীবাদসহ মানবতা বিরোধী সকল অপতৎপরতা ও শোষন মুক্ত সমাজ গঠনের উপায়” বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ইসলামী সমাজের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকারের শোষন, জুলুম-অত্যাচার ও উৎপীড়ন থেকে মুক্ত হয়ে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, মানবতা বিরোধী সকল অপতৎপরতা ও শোষণ মুক্ত সমাজ গঠনের মাধ্যমে মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে মানবাধীকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় এবং দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই করে বহু মানুষের রক্ত ও মা, বোনদের ইজ্জতের বিনীময়ে ১৯৭১ সালেরই ১৬ ডিসেম্বর পাক সরকার ও পাক বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে যারাই রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতায় ছিলেন এবং বর্তমানেও যারা আছেন, তাদের কেউ স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য বাস্তবায়ণে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি, বরং ক্ষমতাসীন সকল সরকার জনগণের তহবীল- রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে তাদের স্বার্থ হাছিল করেছেন। ইসলামী সমাজের আমীর আরও বলেন, মানব রচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে বর্তমান সরকার ও অতীতের সকল সরকার এবং তাদের মদদপুষ্ট সকলেই সাধারণ জনগণের অধিকার হরণ করে অর্থ সম্পদের প্রাচুর্য্য গড়েছেন। গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থাই মূলত দূর্নীতি একথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহর নির্দেশিত ও তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠাই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, জঙ্গীবাদসহ মানবতা বিরোধী সকল অপতৎপরতা ও শোষন মুক্ত সমাজ গঠনের একমাত্র উপায়। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, জঙ্গীবাদসহ মানবতা বিরোধী সকল অপতৎপরতা ও শোষন মুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই ইসলামী সমাজ আল্লাহর নির্দেশিত ও তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি সময় ও অর্র্থ কুরবানীর মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠার এ শান্তিপূর্ন প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার আন্তরিক আহ্বাণ জানান।

ইসলামী সমাজের সদস্য ও নেতা জনাব সোলায়মান কবীর এবং মুহাম্মাদ হাসিবুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সর্ব জনাব – মুহাম্মাদ ইয়াছিন, মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী, নুরুদ্দিন আহম্মেদ, মুফতী মিজানুর রহমান, আলী আজম আর্জু , রাশেদ মনোয়ারসহ আরো অনেকেই।
পরিশেষে দেশবাসীর সার্বিক কল্যাণে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আলোচনা সভার সমাপ্তি হয়।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *