জাতীয় প্রেসক্লাবে “ঐক্যের ডাক” দিলেন ইসলামী সমাজের আমীর।

সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৈৗমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব’ই জাতীয় অনৈক্যের মূল কারণ
আমীর,ইসলামী সমাজ।
“ইসলামী সমাজ” এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় “সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৈৗমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী নেতার নেতৃত্ব” প্রতিষ্ঠিত না থাকায় মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে দুর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৈৗমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব’ই জাতীয় অনৈক্যের মূল কারণ- একথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় জাতির মানুষ দল ও উপদলে বিভক্ত এবং দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও উগ্রতা ইত্যাদি মানবতা বিরোধী অপরাধ ক্রমেই বেড়ে চলছে। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির এ নাজুক পরিস্থিতিতে সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে, এ লক্ষ্যেই “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর” এ মহা সত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনের গুরুত্ব অপরিসীম।

১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং সকাল ১০:৩০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে “অনৈক্যের কারণ এবং সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যের গুরুত্ব ও উপায়” বিষয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো হচ্ছে- ১) সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব ত্যাগ, অস্বীকার ও অমান্য করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর গ্রহণ করে- এর ঘোষণা করতে হবে “রাব্বুনাল্লাহু বা আল্লাহু আক্বার”। ২) সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মানুষের দাসত্ব ও মানুষের মনগড়া আইন-বিধান বা সংবিধানের আনুগত্য ত্যাগ ও অস্বীকার করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও উপাসনা গ্রহণ করে- এর সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করতে হবে “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু”। ৩) সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মানুষের মনগড়া আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতা বা সরকারের আনুগত্য ত্যাগ ও অস্বীকার করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শর্তহীন আনুগত্য- অনুসরণ ও অনুকরণ গ্রহণ করে- এর সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করতে হবে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ”।
৪) মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানব রচিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানকারী এবং আল্লাহরই সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের পরিচালানায় থেকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ঈমান ও চরিত্রের উন্নতি সাধনে যথাযথভাবে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো করতে থাকতে হবে। কোন অবস্থাতেই কোন বিষয়ে মতপার্থক্য সৃষ্টি করে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না।

সংগঠনের আমীর সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘ইসলামী সমাজ’ উপরোল্লেখিত বিষয়গুলোর ভিত্তিতে রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাওয়াতি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দল, মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো গ্রহণ করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
মুহাম্মাদ ইউসুফ আলীর পরিচালনায় ‘আলোচনা সভায়’ আরো বক্তব্য রাখেন, মুহাম্মাদ ইয়াছিন, সোলায়মান কবীর, আজমুল হক, সেলিম মোল্লা প্রমূখ।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *