পবিত্র রমজান মাসে আল-কুরআন নাজিলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় “ইসলামী সমাজে” শামিল হওয়ার আহ্বান।

ইসলামী সমাজের উদ্যোগে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, পুরানা পল্টন, ঢাকায় “রমজান মাসের মাহাত্ম এবং আল-কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য” শীর্ষক অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, সৃষ্টিকর্তা সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন মানুষকে একান্ত দয়া ও মায়া করে সৃষ্টি করেছেন এবং একমাত্র তাঁরই সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই দাসত্ব, আইন-বিধানের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। সুতরাং দুনিয়ায় মানুষ হচ্ছে-আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের দাস ও প্রতিনিধি এটাই মানুষের সঠিক অবস্থান। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই হলেন সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক। যিনি বিশ্ব মানব জাতিকে সকল প্রকার বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে কল্যাণ ও মুক্তির পথ প্রদর্শনের জন্য আলকুরআন নাযিল করেন, যা সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ প্রদানকারী এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্নয়কারী আল কিতাব। যিনি তাঁরই সর্বশেষ নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর পবিত্র রমজান মাসের কদরের রাত্রিতে সূরাতুল আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাযিলের মধ্য দিয়ে কুরআন অবতীর্ণ করা শুরু করেন এবং দীর্ঘ ২৩ বছরে পরিপূর্ণভাবে এই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিলের কাজ সুসম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, মানুষের চিন্তা, চেতনা, বিশ্বাস ও কার্যকলাপের ক্ষেত্রে সকল অপবিত্রতাকে দূরীভূত করে মানবতার বিকাশ ঘটিয়ে নির্মল চরিত্রের অধিকারী লোক গঠনের সুস্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন’ই হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। আল-কুরআনের বিধান মেনে চলার মধ্যেই মানুষের দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ ও শান্তি এবং আখিরাতের জীবনে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে লাভ হবে চির সুখের স্থান জান্নাত। আল্লাহ্র নাযিলকৃত মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের মাহাত্মের প্রেক্ষিতেই রমজান মাসের গুরুত্ব অপরিসীম।
আজ ০১ জুন ২০১৮ ইং রোজ শুক্রবার বিকাল ৩.০০ টায়, ইসলামী সমাজের সদস্য ও নেতা জনাব, আকিক হাবিবুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও ইফ্তার মাহফিলে ইসলামী সমাজের আমীর আরও বলেন, আল্লাহ্র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আল-কুরআনের অহীর নির্দেশ পেয়েই ঈমান ও ইসলামের দাওয়াত দেয়া শুরু করেন এবং দাওয়াত কবুলকারীদেরকে নিয়ে তাঁর নিজ নেতৃত্বের আনুগত্যে একদল ঈমানদার সৎকর্মশীল লোক গঠন করেন, যারা নির্যাতিত হয়েও ছবর ও ক্ষমার নীতিতে অটল থেকে ঈমানের সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ফলে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কে মদীনায় খিলাফাত (রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা) দান করলেন। এভাবে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভ করে তিনি তাঁর সাহাবী ঈমানদার সৎকর্মশীল লোকদের সহযোগীতায় সমাজ ও রাষ্ট্রে আল-কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেই বিধানের মাধ্যমে সকল বিভ্রান্তির মূলোৎপাটন করে মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এটাই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত একমাত্র পদ্ধতি।
তিনি বলেন, সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির লক্ষ্যেই “ইসলামী সমাজ” আল্লাহ্র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব উপলব্ধি করে আল-কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ইসলামী সমাজের সদস্য ও নেতা জনাব মুহাম্মাদ ইয়াছিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- সর্বজনাব, আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল, মোহাম্মাদ সোলায়মান কবীর, মোঃ সোহেল, সাইদুজ্জামান খাঁন, মোঃ আবু রাশেদ সিদ্দিক, সোহাগ আহম্মাদ প্রমুখ।
 

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *