মাতৃভাষায় কুরআন ও সুন্নাহ্র যথাযথ জ্ঞান অর্জনের ব্যবস্থা না থাকার কারণেই মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে বন্দী হয়ে মানুষ দুর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে।

“ইসলামী সমাজ”এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে মাতৃভাষার গুরুত্ব প্রদানে আজ ২১শে ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় “ইসলামী সমাজ”এর উদ্যোগে ‘মানব বন্ধন’ অনুুিষ্ঠত হয়। উক্ত মানব বন্ধনে সংগঠনের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ুন কবীর বলেন, মাতৃভাষায় কুরআন ও সুন্নাহ্র যথাযথ জ্ঞানার্জনের ব্যবস্থা না থাকায় ‘ইসলাম’ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবে দেশবাসী সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ এর পরিবর্তে মানব রচিত ব্যবস্থা ‘গণতন্ত্র’ গ্রহণ করে মানুষেরই সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের নিকট বন্দি হয়ে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের বিভিন্ন রকম আজাব-গজবের শিকার হয়ে বহুবিদ সমস্যায় জড়িয়ে দুর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে।

 মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদী অপতৎপরতা সহ বিভিন্ন রকম মানবতা বিরোধী অপরাধ চলছে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, জঙ্গিতৎপরতা ও নৈরাজ্যসহ সকল প্রকার অপতৎপরতা নির্মূল করে সমাজ ও রাষ্ট্রে সুশাসন ও ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠা করে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে মাতৃভাষায় আলকুরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসরণ ও অনুকরণে ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে ‘ইসলাম প্রতিষ্ঠা অত্যাবশ্যক, এ কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষের জীবনে সকল সমস্যার সমাধান হবে। 

“ইসলামী সমাজ” এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলায় কুরআন ও সুন্নাহ্র যথাযথ জ্ঞান অর্জনের ব্যবস্থা করে জাতির মানুষকে “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর” এই মহাসত্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চেষ্টা করাই সকলের সর্বোচ্চ নৈতিক, মানবিক ও ঈমানী দায়িত্ব।

 ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে জঙ্গীবাদী অপতৎপরতা এবং গণতন্ত্রের অধীনে ভোট, জোট ও নির্বাচন- এ দুটোর কোনটাই ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইসলামী সমাজ” সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠায় “ইসলামী সমাজ”এর এ মহতী প্রচেষ্টায় শামিল হয়ে নৈতিক, মানবিক ও ঈমানী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ইসলামী সমাজের সদস্য ও নেতা মুহম্মাদ ইয়াছিনের পরিচালনায় উক্ত ‘মানব বন্ধন’ এ আরো আলোচনা করেন জনাব আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বে ‘ইসলাম’ এর আইন-বিধান প্রতিষ্ঠা হলেই সকল মানুষের মৌলিক অধিকারসহ সকল অধিকার আদায় ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা হবে; দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠিত হবে, শোষণমুক্ত অর্থনীতি এবং সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, ফলে সকল মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং জাতীয় জীবনে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশবাসী সকলকে তিনি “ইসলামী সমাজ” এর আমীরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে ‘মানব বন্ধন’ অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *