মানুষের সার্বভৌমত্বের অধীনে মানব রচিত আইন দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ার কারণে বিশ্বের মানুষ ধ্বংসের মুখোমূখী 

মানুষের সার্বভৌমত্বের অধীনে মানব রচিত আইন দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ার কারণে বিশ্বের মানুষ ধ্বংসের মুখোমূখী 

ইসলামী সমাজের আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, মানুষ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বোত্তম সৃষ্টি এবং তাঁরই দাস ও জমীনে তাঁরই প্রতিনিধি-এটাই মানুষের সঠিক অবস্থান। তিনি বলেন, আমরা মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। আমাদের প্রয়োজন ও কল্যানেই সমাজ ও রাষ্ট্র। কোন মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্রের বাহিরে থাকতে পারেনা। সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল বিষয় সার্বভৌমত্ব। আর তা হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের মালিকানা এবং সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আইন-বিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগের সর্বোচ্চ ক্ষমতা, যার মিমাংসা না করে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনা করা একেবারেই অসম্ভব। সার্বভৌমত্বের মালিক হওয়ার জন্য চিরন্তন ও চিরস্তায়ী সত্বা হওয়া অপরিহার্য্য, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই একমাত্র চিরন্তন ও চিরস্থায়ী সত্বা, মানুষসহ কোন সৃষ্টিই চিরন্তন ও চিরস্থায়ী নয়। সুতরাং আল্লাহই সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক, মানুষ নয়। সার্বভৌমত্ব যার আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব তাঁরই হয়। কাজেই সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়- এটাই মহাসত্য। 
ইসলামী সমাজের উদ্যোগে গতকাল ১২/০৮/২০১৭ ইং রোজ শনিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ন আলোচনা সভায় ইসলামী সমাজের আমীর সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ মানুষের দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ, শান্তি ও আখিরাতের জীবনে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে চির সূখের স্থান জান্নাত লাভের লক্ষ্যেই মানব জাতির সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সমগ্র জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন-বিধান সম্বলিত কল্যাণকর ও পরিপূর্ন একমাত্র জীবন ব্যবস্থা “ইসলাম” প্রদান করেছেন। ইসলামের মূল বিষয় আল্লাহর প্রতি ঈমান। আল্লাহর প্রতি ঈমানের মূল বিষয়- সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়। ফলে দাসত্ব আইনের আনুগত্য ও উপাসনা একমাত্র আল্লাহর, অন্য কারো নয়। একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও উপাসনা বাস্তবায়নে শর্তহীন অনুসরণ ও অনুকরণ (আনুগত্য) একমাত্র হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অন্য কারো নয়। উক্ত বিষয়গুলোর ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত ও পরিচালিত হলেই মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের মৌলিক অধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিত হবে, দুনিয়ার জীবনে তাদের দুর্ভোগ ও অশান্তি দূর হয়ে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আখিরাতে মহাক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাত লাভের প্রত্যাশী সকল মানুষের কল্যাণ ও মুক্তির পথে চলা সহজ হবে। এ সঠিক জ্ঞান অর্জনের অভাবেই যুগে-যুগে মানুষ মহাসত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সার্বভৌমত্ব কোন না কোন মানুষের উপর আরোপ করে মানুষেরই সার্বভৌমত্বের অধীনে মানব রচিত আইন-বিধান দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করে মহা বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হয়ে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বিভিন্ন রকম আযাব-গযবের শিকার হয়ে বহুবিধ সমস্যায় জড়িয়ে দুনিয়ার জীবনে দুর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটিয়ে আখিরাতের জীবন করেছে ধ্বংস।
ইসলামী সমাজের সদস্য, জনাব সোলায়মান কবীরের পরিচালনায় “সঠিক জ্ঞান অর্জনের অভাবে মহাসত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে বিশ্বের মানুষ মহা বিভ্রান্তিতে  নিমজ্জিত এবং ধ্বংসের মুখোমুখী- এ অবস্থা থেকে উত্তরনের উপায়” বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, বর্তমান বিশ্বের কোন একটি রাষ্ট্রও সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে তাঁর আইন-বিধান দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না। সঠিক জ্ঞান অর্জনের অভাবেই বিশ্বের মানুষ বর্তমানে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন না কোন মানব রচিত ব্যবস্থা গ্রহন করে- মেনে নিয়ে মহাসত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে মহা বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত, যার কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গযব হিসাবে বিশ্বের দেশে দেশে চলছে মানুষে মানুষে হিংষা বিদ্ধেষ, সংঘাত ও সংঘর্ষ এবং অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছাস ভূমিকম্প ও ভূমিধ্বস ইত্যাদি দুর্যোগ। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের মিথ্যা দাবী অস্বীকার ও অমান্য করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর গ্রহন করে আল্লাহকেই একমাত্র সার্বভৌমত্বের মালিক, আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের মালিক ঘোষণা করা এবং এরই ফলশ্রুতিতে মানুষের মনগড়া আইন-বিধানের আনুগত্য অস্বীকার করে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব তাঁর আইনের আনুগত্য ও উপাসনা করার অঙ্গীকার করা। একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব, তাঁর আইনের আনুগত্য ও উপাসনা বাস্তবায়নে মানুষের সার্বভৌমত্বের অধীনে মানুষের মনগড়া আইন-বিধানের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের আনুগত্য অস্বীকার করে জীবনের সকল ক্ষেত্রে একমাত্র হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শর্তহীন আনুসরণ ও অনুকরণ (আনুগত্য) এর অঙ্গীকার করা। এসব বিষয়গুলোর ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর নির্দেশিত ও তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠা করা ও রাখার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর মাধ্যমে নেতৃত্বদানকারী আমীরের নেতৃত্ব মেনে তাঁরই আনুগত্যের অধীনে থেকে ইসলামের আইন-বিধান কায়েমে নিজের সময় ও অর্থ কুরবানী করে আন্তরীক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলে লাভ হবে আল্লাহর ক্ষমা ও আখিরাতের জীবনে চির সূখের স্থান জান্নাত এবং যখন আল্লাহর ইচ্ছায় সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে তখন মানুষের দুনিয়ার জিবনেও হবে কল্যাণ ও শান্তি। এটাই বর্তমান বিশ্বের চলমান নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়।
ইসলামী সমাজ সকল বিভ্রান্তি ও ধ্বংস থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্যই আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে- এ কথার উল্ল্যেখ করে দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী সমাজে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- সর্বজনাব আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল, মুহাম্মাদ ইয়াছিন ও মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী প্রমূখ।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *