সকল প্রকার বিভ্রান্তি এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আজাব-গজব ও ক্ষতি থেকে বাঁচার লক্ষ্যে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ইসলামী সমাজের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী ঘোষণা। আমীর, ইসলামী সমাজ।

ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে থেকে ইসলামের ধর্মীয় কতিপয় আমল করে জান্নাত লাভের আশা করা এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা কিংবা যে কোন উগ্রপন্থা গ্রহণ করা মূলতঃ বিভ্রান্তিমূলক অপতৎপরতা। তিনি আরো বলেন- মানুষের সার্বভৌমত্বের অধীনে থেকে মানব রচিত ব্যবস্থার আইন-বিধান পালনের কারণেই বিশ্বের মানুষ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিভিন্ন রকম আযাব-গজবের শিকার হয়ে দুনিয়ার জীবনে চরম দুর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে এবং তাদের আখেরাতের জীবনও ধ্বংস হচ্ছে। আর এসবই মহাক্ষতি। করোণা ভাইরাসের আক্রমণজনিত মহামারিসহ অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, ঘূর্নিঝড়, জলোচ্ছাস, ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস, দাবানল এবং অর্থসম্পদের মোহসহ ক্ষমতা ও আধিপত্ত বিস্তার নিয়ে মানুষে মানুষে দ্বন্ধ, সংঘাত ও সংঘর্ষ ইত্যাদি মূলত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজব। আজ (সোমবার) ৩১মে ২০২১ইং রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইসলামী সমাজের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল জনাব মুহাম্মাদ ইয়াছিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিশেষ মানব বন্ধনে ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি এবং সকল প্রকার আযাব-গজব ও ক্ষতি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে- (১) সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান, কর্তৃত্ব ত্যাগ ও অস্বীকার করে জীবনের সকল ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর মেনে ‘রাব্বুনাল্লাহু বা আল্লাহু আকবার’ ঘোষণা করা। (২) মানুষের দাসত্ব, মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্য ও গাইরুল্লাহর উপাসনা ত্যাগ করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও উপাসনা গ্রহন করে ‘আশ্হাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করা। (৩) মানুষের মনগড়া আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের আনুগত্য ত্যাগ করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে শর্তহীন আনুগত্য- অনুসরণ ও অনুকরণ হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর গ্রহন করে ‘আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহু’ সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করা। (৪) মানুষের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রসহ সকল প্রকার মানব রচিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানকারী একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নিকট আনুগত্যের বায়াত গ্রহন করা এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলির ভিত্তিতে নিজের সময় ও অর্থ কুরবানির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমলসহ অন্য সকল ধারাবাহিক আমলগুলো করতে থাকা। দলমত নির্বিশেষে সকলকে তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সকল প্রকার আযাব-গজব এবং নানান বিভ্রান্তি ও ক্ষতি থেকে বাঁচার লক্ষ্যে ইসলামী সমাজে শামিল হওয়ার আন্তরিক আহবান জানিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় ইসলামী সমাজের ৬টি অফিস কেন্দ্রীক দাওয়াতী কাজের টিমসমূূূহের তালিকা প্রকাশ করেন এবং গণসংযোগ, লিফলেট ও সীমিত আকারে পথসভা করার কর্মসূচী ঘোষণা করেন। মানব বন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন সর্ব জনাব- মুহাম্মদ ইউসুফ আলী ও সোলায়মান কবীর প্রমূখ। টিমসমূহের দায়িত্বশীলসহ কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণকারী সদস্যগণ হলেন- * আশকোনা অফিস: দায়িত্বশীল-মোঃ ইউসুফ আলী। অন্যরা হলেন ১-গুলজার আহম্মেদ, নেত্রকোনা। ২-আঃ বাতেন, লক্ষীপুর। ৩-বদিউজ্জামান জুয়েল, টাঙ্গাইল। ৪-আব্দুল আলীম, কুমিল্লা। ৫-আঃ মান্নান, বগুড়া। ৬-হাসিবুল ইসলাম, পটুয়াখালী। ৭-আলী আকবার, টাঙ্গাইল। ৮-আলী আজম আরজু, গাজীপুর। ৯-আব্দুল্লাহ আল মামুন, গাজীপুর। ১০-ইউসুফ আলী, টাঙ্গাইল। ১১-কারী মফিজ, কুমিল্লা। * যাত্রাবাড়ী অফিস: দায়িত্বশীল- মোঃ সেলিম মোল্লা,। অন্যরা হলেন ১-আবু জাফর মোঃ ছালেহ, চাঁদপুর। ২-হাফেজ উসমান গণী, কুমিল্লা। ৩-আঃ হক,কুমিল্লা। ৪-আঃ করীম, কুমিল্লা। ৫-সাইদুল ইসলাম, কুমিল্লা। ৬-মোঃ সোহেল,ঢাকা। ৭-আমীরুল ইসলাম সোহান,ঢাকা। ৮-আঃ জলীল, শরিয়তপুর। ৯-আইয়োব আলী প্রধান, নারায়নগঞ্জ ১০-রফিকুল ইসলাম, ফরিদপুর ১১-জহির উদ্দিন মামুন, গাজীপুর। ১২-আলমগীর মোল্লা, কুমিল্লা। ১৩-আবু রাশেদ সিদ্দিক, শেরপুর। ১৪-আঃ কাদের, কুমিল্লা। ১৫-আঃ আওয়াল, কুমিল্লা। ১৬- হাজী মোঃ গাজী, কুমিল্লা। * মিরপুর অফিস: দায়িত্বশীল- মুহাম্মাদ নূরুদ্দীন আহম্মেদ। অন্যরা হলেন ১-হাফিজুর রহমান,পাবনা। ২-মুহাম্মদ রানা ইসলাম, মাগুড়া। ৩-আঃ রশিদ, শেরপুর। ৪-জাহাঙ্গীর, কিশোরগঞ্জ। ৫-জামিল, মিরপুর। ৬-আঃ আলীম,সিরাজগঞ্জ। ৮-মাহাবুব,বগুড়া। ৯- হারুনুর রশিদ বাবু,গাজীপুর। * নাখালপাড়া অফিস: দায়িত্বশীল- মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ। অন্যরা হলেন ১-সাইফুল ইসলাম, বগুড়া। ২-আবু শামাহ, চুয়াডাঙ্গা। ৩-হুমায়ূন কবীর, নীলফামারী। ৪-আরিয়ান আহম্মেদ নাঈম, বরগুনা। ৫-মুহাম্মদ রাজু, ময়মনসিংহ। ৬-মুহাম্মদ ইয়াছিন, কিশোরগঞ্জ। ৭-মনিরুজ্জামান, রংপুর। ৮-রহুল আমীন, চট্রগ্রাম। ৯- খোরশেদ আলম, কুমিল্লা। * বাসাবো অফিস: দায়িত্বশীল- মুহাম্মদ ইয়াছিন। অন্যরা হলেন ১-আজমুল হক, কুমিল্লা। ২-কবির হোসেন, নাটোর। ৩-মোঃ সোহাগ, গাজীপুর। ৪-হাবিবুর রহমান,চাঁদপুর। ৫-মোঃ মাসুম, কিশোরগঞ্জ। ৬- মোশারফ-কিশোরগঞ্জ। ৭- আনোয়ার, কুমিল্লা। ৮- মোঃ রণি, পিরোজপুর। ৯- কামাল, কুমিল্লা। ১০-রফিক, খুলনা। ১১- মোঃ শরিফ, কুমিল্লা। ১২- দ্বীন ইসলাম, কুমিল্লা। ১৩- মোঃ রুবেল,কুমিল্লা। ১৪- মোঃ জাকির, কুমিল্লা। * হাজারীবাগ অফিস: দায়িত্বশীল- আসাদুজ্জামান বুলবুল। অন্যরা হলেন ১-আবু বকর সিদ্দিক,পটুয়াখালী। ২-শফিউদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা। ৩- ইজাজুল ইসলাম,কুষ্টিয়া। ৪-আবুল কালাম,শেরপুর। ৫-মুজাম্মেল হক,বিবাড়ীয়া। ৬-রমজান আলী, খাগড়াছড়ি ৭-শাহআলম, পটুয়াখালী। ৮-জামাল,কামরাঙ্গীর চড়। ৯- জাহাঙ্গীর আলম, শেরপুর। সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই আমাদের একমাত্র সহায় ও সাহায্যকারী। তিনি আমাদের সকলকে কল্যাণ ও মুক্তির পথে জীবন গড়ার এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের তৌফিক দিন। পরিশেষে সরকার, প্রশাসন ও দেশবাসী সকলের আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগীতা প্রত্যাশা করে এবং সকলের কল্যাণে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে মানব বন্ধনের কার্যক্রম সমাপ্ত করেন।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *