সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা’ই সংঘাতময় অবস্থা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। আমীর, ইসলামী সমাজ।

ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় “মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব”ই মানব জীবনের মূল সমস্যা। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে ইসলামের পরিবর্তে মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় বিশ্ববাসী মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের অধীনে বন্দি হয়ে আছে, যার কারণে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে অর্থ-সম্পদের মোহ এবং ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মানুষে মানুষে সংঘাত ও সংঘর্ষ চলছে, ক্রমে ক্রমে সংঘাত ও সংঘর্ষের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষ তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্যের মাধ্যমে মানুষের দাসত্ব করার কারণে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের বিভিন্ন রকম আযাব-গজবের শিকার হয়ে দুর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে এবং এ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে তাদের আখিারাতের জীবনে মহাক্ষতি হবে।
আজ ১১ ডিসেম্বর ২০২২, (রবিবার) বিকাল ৩ঘটিকায় রাজধানীর পল্লবী থানাধীন ময়ূরী কমিউনিটি সেন্টারে ‘ইসলামী সমাজ’ ঢাকা উত্তর সিটির সহকারী দায়িত্বশীল, জনাব মোস্তফা জামিল সাদ এর সঞ্চালনায় “দেশে চলমান সংঘাতময় অবস্থার কারণ এবং এথেকে বাচাঁর উপায়” বিষয়ে অনুষ্ঠিত শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের আমীর বলেন, সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়! এটাই মহাসত্য, এটাই রাজনীতির মূল বিষয়। মানব রচিত ব্যবস্থা চরম দুর্নীতি একথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তামানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে রাজনীতির নামে দুর্নীতি চলছে। আমাদের বাংলাদেশে রাজনীতি নেই, আছে দুর্নীতি। গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা চরম দুর্নীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না। গণতন্ত্র দেশবাসীকে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করে সংঘাত ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গণতন্ত্রের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার এবং সরকার বিরোধীরা ভয়াবহ সংঘাত ও সংঘর্ষের মুখোমুখী অবস্থান করছে। উভয় পক্ষ দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের নৈরাজ্যের কারণে মানুষের জীবনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত থাকায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বেড়ে চলছে এবং সাধারন মানুষ ক্রয় ক্ষমতা হারিয়ে মানবতের জীবন-যাপন করছে। দেশ ও জাতির এহেন নাজুক পরিস্থিতি এবং সংঘাতময় অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে আল্লাহর নির্দেশিত ও তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে মানব রচিত ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ প্রদত্ত ব্যবস্থা ইসালামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামী সমাজের নেতা ও কর্মীগণ গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন এবং সকল প্রকার সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেই ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে ঈমানদার ও সৎকর্মশীল লোক গঠন করে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দল-মত নির্বিশেষে সকলের জন্য ‘ইসলামী সমাজ’ নিরাপদ আশ্রয়স্থল একথার উল্লেখ করে তিনি সকলকে ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান।
শান্তি সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল, জনাব মুহাম্মাদ ইয়াছিন, মুহাম্মাদ নুরুদ্দিন, মোহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দিক, মিনহাজ উদ্দিন, আব্দুর রশিদ, রানা ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *