সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষে ইসলামী সমাজ কর্তৃক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী ঘোষণা।

“ইসলামী সমাজ” এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, মানুষের প্রয়োজন ও কল্যাণেই সমাজ ও রাষ্ট্র এবং এজন্য প্রয়োজন কল্যাণকর ব্যবস্থা। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ দুনিয়ায় মানুষের সার্বিক কল্যাণ এবং  আখিরাতের জীবনে মুক্তির লক্ষ্যে মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সমগ্র জীবন পরিচালনার জন্য কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা “ইসলাম” প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল বিষয় সার্বভৌমত্ব, যা মূলতঃ সমাজ ও রাষ্ট্রের মালিকানা এবং সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আইন-বিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগের চূড়ান্ত ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। সার্বভৌমত্ব যার, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব তাঁরই হয়। সার্বভৌমত্বের মালিক হওয়ার জন্য চিরন্তণ ও চিরস্থায়ী সত্বা হওয়া অপরিহার্য বিধায়: আল্লাহ্’ই সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক, অন্য কেউ নয়। সুতরাং “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহ্র”-এটাই মহাসত্য এবং আল্লাহ্র প্রতি ঈমানের মূল বিষয়। আল্লাহ্র প্রতি ঈমানের ফলশ্রুতি হচ্ছে- দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা একমাত্র আল্লাহ্র এবং এর বাস্তবায়নে শর্তহীন অনুসরণ ও অনুকরণ একমাত্র আল্লাহ্র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর, অন্য কারো নয়। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা “ইসলাম” এর পরিবর্তে মানব রচিত ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে মানুষেরই মনগড়া আইনের আনুগত্য এবং এরই ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের আনুগত্য স্বীকার করা হয়। আর এ সবই  কুফ্র ও র্শিক অর্থাৎ মহান রব্বের অবাধ্যতা এবং তাঁরই সমকক্ষ গণ্য করা। র্শিক ও কুফ্রের কারণেই আল্লাহ্র বিশেষ রহ্মতের পরিবর্তে তাঁরই বিভিন্ন রকম আযাব-গযব নাযিল হয়। মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রে- ক্ষমতা, আধিপত্য বিস্তার ও অর্থ-সম্পদের মোহে মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব- সংঘাত- সংঘর্ষ, মানুষের জান, মাল ও ইজ্জতের ক্ষতি সাধন এবং অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস ও দাবানল ইত্যাদি সবই মূলতঃ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গযব।

জনাব আকিক হাবিবুজ্জামানের সভাপতিত্বে “মানব জীবনের বাস্তব মূল সমস্যা ও এর সমাধান বিষয়ে” অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় “ইসলামী সমাজ”এর আমীর সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশবাসী মহা র্শিক গণতন্ত্র গ্রহনের মাধ্যমে জনগণকে সার্বভৌমত্বের মালিক মেনে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সার্বভৌমত্বের সাথে র্শিক  করছে এবং মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্য করে মানুষের দাসত্ব  ও মানুষেরই আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের আনুগত্য করছে, যার কারণে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় “মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব”ই মানব জীবনের মূল সমস্যা- এ কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানুষের মনগড়া আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের নেতৃত্বে দেশ ও জাতি পরিচালিত হচ্ছে বিধায়; আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গযবের অংশ হিসেবেই দেশবাসী বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষে লিপ্ত। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, জঙ্গিতৎপরতা, গুম ও খুন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ চলছে। দেশের মানুষের জান, মাল ও ইজ্জতের নেই কোন নিরাপত্তা, খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যমূল্যের ক্রম উর্ধগতিতে দেশের মানুষ দিশেহারা। সুশাসন, ন্যায়বিচার, ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে দেশের সাধারণ মানুষ আজ চরম দুর্ভোগ ও অশান্তিতে দুর্বিসহ কাল কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মানুষের আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের নেতৃত্ব’ই এ সকল সমস্যার বাস্তব মূল সমস্যা। দেশ ও জাতির এ নাজুক অবস্থা থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হচ্ছে- “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহ্র” এ মহা সত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠন এবং একমাত্র আল্লাহ্র সার্বভৌমত্বের অধীনে তাঁরই আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বে আল্লাহ্র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসরণ ও অনুকরণে  সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ প্রদত্ত কল্যাণকর জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ এর আইন-বিধান দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করা। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীগণ স্ব স্ব ধর্ম পালন করার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা “ইসলাম” এর আইন-বিধান মেনে চললে ‘রাষ্ট্র সকলের ও ধর্ম যার যার হবে’ এবং জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে সকল মানুষেরই মৌলিক অধিকারসহ সকল অধিকার প্রাপ্তি হবে, সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সকলের জান, মাল ও ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে; এ লক্ষেই “ইসলামী সমাজ” আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সকল প্রকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও জঙ্গিতৎপরতাসহ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘ইসলামী সমাজ’ এর দৃঢ় অবস্থান।

“ইসলামী সমাজ” এর উদ্যোগে- গতকাল ০৬/০৫/২০১৬ ইং রোজ শুক্রবার বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটরিয়াম, ঢাকা’য়  অনুষ্ঠিত গুরুত্বপুর্ণ আলোচনা সভায় “ইসলামী সমাজ” এর আমীর দলমত নির্বিশেষে সকলকে ইসলামী সমাজ পরিচালিত ইসলাম প্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টায় শামিল হওয়ার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। তিনি মানব জীবনের বাস্তব মূল সমস্যাসহ সকল সমস্যার সমাধানে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহ্র” এ মহাসত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনে- আগামী ১৬/০৫/২০১৬ ইং রোজ সোমবার- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সম্মানিত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মহোদয় এবং আগামী ১৭/০৫/২০১৬ ইং রোজ মঙ্গলবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল মন্ত্রী ও সচিবদের এবং পরবর্তিতে পর্যায়ক্রমে- জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ (ডি সি, এস পি, টি এন ও/ ইউ এন ও এবং ওসি ), গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের পরিচালক বৃন্দ, পুলিশ ও র‌্যাবের বিশেষ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমূহের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিশেষ ব্যাক্তিবর্গসহ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বরাবর “ইসলামী সমাজ” এর আমীরের পক্ষ থেকে বিশেষ দাওয়াতী পত্র প্রতিনিধি টিমের মাধ্যমে প্রদান করার কর্মসূচী ঘোষণা করেন এবং তা বাস্তবায়নে সকলের আন্তরিক সহযোগীতা প্রত্যাশা করেন।

জনাব আসাদুজ্জামান ও জনাব মুনসুর আলীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সর্ব জনাব আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল, মুহাম্মাদ ইয়াছিন, মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী, মোঃ সোলায়মান কবীর ও মোঃ আমীর

উক্ত সভায় ইসলামি সমাজ এর আমির সৈয়দ হুমায়ূন কবীর, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহাসত্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

আগামী ১৬/০৫/২০১৬ ইং রোজ সোমবার- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মহোদয় এবং আগামী ১৭/০৫/২০১৬ ইং রোজ মঙ্গলবার- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল মন্ত্রী এবং সচিবদের বরাবর “ইসলামী সমাজ” এর পক্ষ থেকে বিশেষ দাওয়াতী পত্র প্রতিনিধি টিমের মাধ্যমে প্রদান করা হবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে- “জাতীয় সংসদ” এর সাংসদবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমূহের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ ( ডি সি, এসপি, টি এন ও / ইউ এন ও এবং ওসি), গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের পরিচালক বৃন্দ, পুলিশ ও র‌্যাবের বিশেষ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশের বিশেষ ব্যাক্তিবর্গসহ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বরাবর “ইসলামী সমাজ” এর পক্ষ থেকে বিশেষ দাওয়াতী পত্র প্রদান করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *