সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের মাঝে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে “ইসলামী সমাজ” এর কর্মসূচী ঘোষণা।

‘ইসলামী সমাজ’ এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও, স্বাধীনতা অর্জনের ৪২ বছর পরও দেশের মানুষের জীবনে আজ পর্যন্ত সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সমাজ হয়নি শোষণমুক্ত, মানবাধিকার হচ্ছে ভূলুণ্ঠিত এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাস সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য মানুষের ধর্মীয় চেতনা ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী লোকদের জান. মালের উপরও আঘাত করছে।সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার নামেও উগ্রতা, জঙ্গীতৎপরতা ও নৈরাজ্যসহ বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি চলছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুফল থেকে বঞ্চিত জাতির মানুষ আজ বিভিন্ন ইস্যুতে বিভক্ত হয়ে মানবতা ও মনুষত্ব হারিয়ে হিংস্রতা, পশুত্ব ও প্রতিহিংসায় মেতে উঠেছে।

জনাব মাষ্টার তাবারক আলী শায়খ-এর সভাপতিত্বে আজ ১৭ জানুয়ারী, শুক্রবার বিকাল ৩:০০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত শান্তি সমাবেশে ‘ইসলামী সমাজ’ এর আমীর হযরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর” এই মহা সত্যের ভিত্তিতে সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার সুযোগ রেখে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা ‘ইসলাম’এর আইন-বিধান দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করা হলেই দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠিত হবে এবং উগ্রতা, জঙ্গীতৎপরতা ও নৈরাজ্যসহ সকল প্রকার অপতৎপরতা নির্মূল হয়ে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। আর তখনি মানবাধিকার নিশ্চিত হবে এবং প্রতিহিংসা দূর হয়ে মানুষের মাঝে আন্তরিকতা, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, সাম্য, ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যেই“ইসলামী সমাজ” আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণকর জীবন ব্যবস্থা ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মাঝে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে তিনি     তিন দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন। ঘোষিত তিন দফা কর্মসূচী হচ্ছে:

১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী মহোদয়কে “মানুষের নয়! সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর” এই মহা সত্যের ভিত্তিতে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের জীবনে শান্তি ও মানবাধিকার নিশ্চিত  করার লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য ইসলামী সমাজ’এর পক্ষ থেকে একটি আহ্বান পত্র জনাব আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল’এর নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে আগামী ২০ জানুয়ারী, ২০১৪ ঈসায়ী, সোমবার, সকাল ১১:০০ টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রদান করা হবে।

২) ‘ইসলামী সমাজ’ আগামী ২৪ জানুয়ারী ২০১৪ ঈসায়ী, শুক্রবার বিশেষ টিমের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীতে প্রচার পত্র বিলি ও গণসংযোগ কার্যক্রম শুরু করবে।

৩) ‘ইসলামী সমাজ’ আগামী ২১ ফেরুয়ারী ২০১৪ ঈসায়ী, শুক্রবার, সকাল ১১:০০ টা থেকে ১২:০০ টা পর্যন্ত ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, জঙ্গীতৎপরতা ও নৈরাজ্যসহ সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সমাজ ও রাষ্ট্রে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল মানুষের সকল অধিকার আদায় ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচী পালন করবে।

দেশবাসী সকলকে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠায় উক্ত কর্মসূচীতে শামিল হয়ে মানবিক, নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

জনাব সুলাইমান কবীরের পরিচালনায় শান্তি সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জনাব আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল ও মুহাম্মাদ ইয়াছিন প্রমুখ।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *