সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যের ডাক দিলেন- ইসলামী সমাজের আমীর।

ইসলামী সমাজের আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জনের অভাবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না থাকায় বিশ্বের মানুষ মানব রচিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে মানুষেরই মনগড়া আইনের আনুগত্য স্বীকার করে আল্লাহর সাথে কুফর ও শিরকে লিপ্ত হয়ে বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিতে ডুবে আছে। যার কারণে মানুষের দুনিয়ার জীবনে চরম দুর্ভোগ ও অশান্তি বিরাজ করছে এবং তাদের আখিরাতের জীবনও ধ্বংস হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশেও গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে জনগণের সার্বভৌমত্বের নামে দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত দলীয় নেতাদের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব চলছে এবং মানুষের মনগড়া সংবিধানের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দানকারী নেতাদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। যার কারণে জাতির মানুষ সুশাসন ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত এবং দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, জঙ্গীতৎপরতা, গুম-খুন, ধর্ষন ও মাদক ইত্যাদি মানবতা বিরোধী অপরাধের সয়লাবে জাতীয় জীবনে চরম দূর্ভোগ ও অশান্তি চলছে। তিনি আরো বলেন, সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে আল্লাহর নির্দেশিত এবং তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলেই মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে, তাদের 

মৌলিক অধিকারসহ সকল অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে এবং সকল প্রকার দূর্ভোগ ও অশান্তি দূর হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং মঙ্গলবার, সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে ইসলামী সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব সোলায়মান কবীরের সঞ্চালনায় “ইসলাম ও ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি” বিষয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ ওলামা সম্মেলনে উপস্থিত ওলামাদের এবং দেশবাসী ভাই ও বোনদের উদ্দেশ্যে সংগঠনের আমীর বলেন, গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন কিংবা সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের পরিবর্তে মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকাকালীন সময়ে সশস্ত্র লড়াই ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নয়।

তিনি বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব ত্যাগ, অস্বীকার ও অমান্য করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর গ্রহন করে ঘোষণা করতে হবে “রাব্বুনাল্লাহু বা আল্লাহু আকবার”। মানুষের দাসত্ব, মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্য ও গাইরুল্লাহ্র উপাসনা ত্যাগ ও অস্বীকার করে সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা একমাত্র আল্লাহর গ্রহন করে সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করতে হবে- আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু। মানুষের আইনের ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের আনুগত্য ত্যাগ ও অস্বীকার করে, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে শর্তহীন আনুগত্য- অনুসরণ ও অনুকরণ একমাত্র হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর গ্রহন করে সাক্ষ্য ও অঙ্গীকার করতে হবে- আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলূল্লাহ্ এবং এসব বিষয় সমূহের দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহরই সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বের আনুগত্যে ‘ইসলামী সমাজ’ গঠন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আন্দোলনের পথে সকল প্রকার বিরোধীতার মোকাবেলার দায়িত্ব আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে ছবর ও ক্ষমার নীতিতে দৃঢ় থেকে আল্লাহর উপর পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে আন্দোলনের নেতা-কর্মীগণ নিজেদের সময় ও অর্থ কুরবানী করে দাওয়াতী কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে এবং আল কুরআন ও সুন্নাহর দিক-নির্দেশনা মোতাবেক ছালাত ও অন্যান্য আমল সমূহ নিজেদের জীবনে কার্যকরী করার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর ও বৃদ্ধি করতে থাকলেই আমীরের নেতৃত্বে যখন আল্লাহ রাব্বুল ’আলামীনের নিকট গ্রহণযোগ্য একদল ঈমানদার সৎকর্মশীল লোক গঠন হবে, তখনি তিনি যেখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চান সেখানে তাদেরকে খিলাফত-রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দান করবেন।

এভাবে আমীরের নেতৃত্বে ঈমানদারগণ রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভ করলেই সকল ধর্মের লোকদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসরণ ও অনুকরণে পর্যায়ক্রমে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের আইন-বিধান চালু করে মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন- এটাই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আল্লাহর নির্দেশিত এবং তাঁরই রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত একমাত্র পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতেই “ইসলামী সমাজ” সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলামী সমাজ পরিচালিত ইসলাম প্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শামিল হয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলার আহবান জানান।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী সমাজের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আগত আলেমগণ।
পরিশেষে জাতীয় ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে ‘ঐক্যের ডাক’- শিরোনামে বিশেষ একটি বই বিতরণ করা হয় এবং দেশবাসীর সার্বিক কল্যাণে দোয়ার মাধ্যমে বিশেষ ওলামা সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *