“সমাজ ও রাষ্ট্র” ইসলামের ভিত্তিতে গঠিত এবং পরিচালিত হলেই সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে । আমীর, ইসলামী সমাজ।

“ইসলামী সমাজ” এর আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, মানুষ সমাজবদ্ধ জীব এবং মানুষের প্রয়োজন ও কল্যাণেই সমাজ ও রাষ্ট্র। সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল বিষয় সার্বভৌমত্ব। সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব হচ্ছে- সমাজ ও রাষ্ট্রের মালিকানা এবং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় আইন-বিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগের সর্বোচ্চ ক্ষমতা। সার্বভৌমত্ব যার আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব তাঁরই হয়। মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনাসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়! এটাই মহাসত্য। মহাসত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মহামিথ্যা- মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান কর্তৃত্বের ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত কোন সমাজ এবং রাষ্ট্রই মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়!
“ইসলামী সমাজ” এর সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা সোলায়মান কবীর এর সঞ্চালনায়- আজ ২৪ ফেব্রæয়ারি ২০২২; (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩ ঘটিকায় “সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের উপায়” বিষয়ে- জাতীয় প্রেসক্লাব এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা ‘ইসলাম’ই একমাত্র সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর জীবন বিধান। ইসলামের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত ও পরিচালিত হলেই তা সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বিশ্বের কোন একটি রাষ্ট্র ইসলামের ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে না, যার কারণে সমাজ এবং রাষ্ট্রগুলো আজ মানুষের জন্য অকল্যাণকর অবস্থায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সমাজ এবং রাষ্ট্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ প্রদত্ত কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ ব্যবস্থা ইসলামের পরিবর্তে মানব রচিত ব্যবস্থা ‘গণতন্ত্র’ গ্রহণ করে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পরিবর্তে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব, মানুষের মনগড়া সংবিধানের আনুগত্য এবং এরই ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের আনুগত্য স্বীকার করে আল্লাহর সাথে কুফর ও শিরকে লিপ্ত হয়ে গঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে; বিধায় এদেশের সমাজ এবং রাষ্ট্র কোন মানুষের জন্যই কল্যাণকর নয়।
তাই সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে হবে একথার উল্যেখ করে তিনি আরও বলেন, সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে হলে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব, মানুষের মনগড়া সংবিধানের আনুগত্য এবং এরই ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী নেতাদের আনুগত্য অস্বীকার ও অমান্য করে, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব, তাঁরই প্রদত্ত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সংবিধান- আল্কুরআন এর আইন-বিধানের আনুগত্য এবং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শর্তহীন আনুগত্য- অনুসরণ ও অনুকরণের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনা করতে হবে। এ লক্ষ্যে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধিনে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বে আল্লাহরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ঈমানের সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একদল ঈমানদার এবং সৎকর্মশীল লোক গঠন হতেই হবে। তাহলেই, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাদেরকে খিলাফত-রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দান করবেন। আর তখনি তারা সকল ধর্মের অনুসারিদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রে পর্যায়ক্রমে ইসলামের আইন-বিধান চালু করে কল্যাণকর সমাজ এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবেন। এভাবেই সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হবে এবং মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার পাবে, সকল সমস্যার সমাধান হবে। সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই “ইসলামী সমাজ” গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল, মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি “ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- ইসলামী সমাজের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল জনাব আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল, মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লা, মুহাম্মাদ ইয়াছিন, মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ, আমীর হোসাইন ও আজমুল হক প্রমুখ।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published.