সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটছে এবং ক্রমেই অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে-

সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটছে এবং ক্রমেই অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে-

                                                                                                                                    আমীর, ইসলামী সমাজ।

“ইসলামী সমাজ” এর  আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের পরিবর্তে মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায়-বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রেই মানুষে মানুষে দন্ধ, সংঘাত ও সংঘর্ষ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের জীবনে মানবতা ও মনুষত্ব বিলুপ্ত হয়ে হিংসা-প্রতিহিংসা এবং মানবতা বিরোধী অপতৎপরতা ক্রমেই বেড়ে চলছে, দুর্বলের উপর শক্তিমানের শোষন ও জুলুম চলছে, ক্ষমতাসীনদের লুট-পাট ও অরাজকতা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ট করছে। দুর্নীতি, সস্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিশ্বের মানুষের জীবনে অশান্তির মাত্রা বৃদ্ধি করছে এবং ধর্মের নামেও সন্ত্রাস, উগ্রতা ও জঙ্গীবাদী অপতৎপরতার বিস্তার ঘটছে।


ইসলামী সমাজের উদ্যোগে “বিশ্বব্যাপী অশান্তির মাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? দেশে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিস্তারের কারণ এবং এসব সমস্যার সমাধানের উপায়” বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ’ই মানুষসহ সমগ্র সৃষ্টি জগতের একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, এটাই আল্লাহর মূল পরিচয়। মানুষ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহরই সর্বোত্তম সৃষ্টি, তাঁরই দাস ও জমীনে তাঁরই প্রতিনিধি (খলিফা)- এটাই মানুষের সঠিক অবস্থান। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক আল্লাহ মানুষকে জমীনে তাঁরই প্রতিনিধি বানিয়েছেন এবং প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন না করলে ভয়াবহ পরিণতির কথাও জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন- “তিনিই জমীনে তোমাদের প্রতিনিধি বানিয়েছেন, (এমতাবস্থায়) যে কোনো ব্যক্তিই কুফ্রী করবে (প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে না) তার কুফ্রী তার নিজের উপরই বর্তাবে, কুফ্র কারীদের কুফ্রী কেবল তাদের রব্বের ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং কুফ্র কারীদের কুফ্রী তাদের জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না”। তিনি আরও বলেন, মানুষ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতিনিধি হিসাবে তাঁরই প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দাস হিসাবে তাঁরই দাসত্ব করবে এটাই মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য সুতরাং মানুষের করণীয় হচ্ছে আল্লাহকেই একমাত্র সার্বভৌমত্বের মালিক মেনে নিয়ে তাঁরই আইন-বিধানের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে শুধুমাত্র তাঁরই দাসত্ব, আনুগত্য করা।

ইসলামী সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব মুহাম্মাদ ইয়াছিনের পরিচালনায়, অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ইসলামী সমাজের আমীর আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহর নির্দেশিত এবং তাঁরই  রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ন পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলেই সকল অশান্তি দূর হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশে দেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও উগ্রতাসহ সকল অপতৎপরতার করাল গ্রাস হতে বিশ্বের মানুষ মুক্তি লাভ করেবে। ইসলামী সমাজ মানব রচিত ব্যবস্থার মহাক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্যই আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে- এ কথার উল্ল্যেখ করে দল-মত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী সমাজে শামিল হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- সর্বজনাব আবু জাফর মুহাম্মাদ ইকবাল, আকিক হাবিবুজ্জামান, সোলায়মান কবীর ও মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী সমাজের বিভাগীয় সকল দায়িত্বশীলগণ।

 

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *