সীমালঙ্ঘনকারী নেতাদের নেতৃত্বের কারণে ধ্বংসের মুখোমুখি মানব সমাজ। আমীর, ইসলামী সমাজ।

“ইসলামী সমাজ” এর আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেছেন, মানুষ সমাজবদ্ধ জীব এবং মানুষের প্রয়োজন ও কল্যাণেই সমাজ ও রাষ্ট্র। সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল বিষয় সার্বভৌমত্ব। সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব হচ্ছে- সমাজ ও রাষ্ট্রের মালিকানা এবং সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় আইন-বিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগের সর্বোচ্চ ক্ষমতা। সার্বভৌমত্ব যার আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব তাঁরই হয়। মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনাসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়! এটাই মহাসত্য। মহাসত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান কর্তৃত্বের অধীনে নেতৃত্ব দানকারী সকল প্রকার নেতাই সীমালঙ্ঘনকারী নেতা।
“ইসলামী সমাজ” এর সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মাদ ইয়াছিন সাহেব এর সঞ্চালনায়- আজ ২৭ জানুয়ারি ২০২২; (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৩ ঘটিকায় “সীমালঙ্ঘনকারী নেতাদের নেতৃত্বের কারণে ধ্বংসের মুখোমুখি মানব সমাজ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায়” বিষয়ে- জাতীয় প্রেসক্লাব এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী সমাজের আমীর বলেন, মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে নেতৃত্বদানকারী সকল নেতাই সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের অধীনে বন্দী বিধায়; তারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের সীমালঙ্ঘনকারী নেতা। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত থাকায় প্রতিটি রাষ্ট্রের নেতৃত্বদানকারী নেতৃবৃন্দ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে বিশ্বের মানুষকে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পথে ঠেলে দিয়েছেন, যার কারণে করোনা ও ওমিক্রন ভাইরাসের আক্রমণজনিত মহামারিসহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিভিন্ন রকম আযাব-গজব বিশ্ববাসীকে গ্রাস করছে। তিনি বলেন, অর্থ সম্পদের মোহ এবং ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মানুষে মানুষে সংঘাত ও সংঘর্ষ মূলতঃ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব-গজবেরই অংশ।
তিনি আরও বলেন, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের সীমালঙ্ঘনকারী নেতাদের নেতৃত্বের কারণেই সমাজ ও রাষ্ট্রে মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে এবং এ কারণেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিভিন্ন রকম আযাব-গজবের শিকার হয়ে ধ্বংসের মুখোমুখী মানব সমাজ। তিনি বলেন, ধ্বংস থেকে বাঁচতে হলে মানব রচিত ব্যবস্থা এবং এরই অধীনে নেতৃত্বদানকারী আল্লাহর সার্বভৌমত্বের সীমালঙ্ঘনকারী সকল প্রকার নেতাদের আনুগত্য ত্যাগ করে একমাত্র আদর্শ ‘ইসলাম’ গ্রহণ করে আল্লাহর’ই সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দেশ ও জাতির সকল মানুষকে ধ্বংস থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যেই “ইসলামী সমাজ” গণতন্ত্রসহ সকল মানব রচিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দল, মত নির্বিশেষে সকলকে তিনি “ইসলামী সমাজে” শামিল হয়ে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার ঈমানী, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- ইসলামী সমাজের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল জনাব মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ, আসাদুজ্জামান বুলবুল, আকিক হাবিবুজ্জামান, আজমুল হক, আমীর হোসাইন, সোলায়মান কবীর প্রমুখ।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-

Leave a Reply

Your email address will not be published.