দাওয়াত, কর্মনীতি ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি

ইসলামী সমাজএর আদর্শ

মানুষের জীবনের সকল দিক ও বিভাগ গঠন ও পরিচালনায় চিন্তা, চেতনা ও বিশ্বাস পরিশুদ্ধ করণে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা ইসলাম-এর নীতিমালাই একমাত্র আদর্শ।  আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত্ব আদ্বীন-একমাত্র জীবন বিধান-ইসলাম-ই ইসলামী সমাজ-এর আদর্শ। ইসলাম সংকীর্ণ অর্থে কোন ধর্ম নয়, বরং এটা মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন বিধান। মানব জীবনের সকল প্রকার কলুষতা, স্বার্থপরতা, অনৈতিকতা, মিথ্যাচারিতা, বিশ্বাসঘাতকতা, জুলুম, শোষণ, অত্যাচার, নির্যাতন, বর্বরতা, সকল প্রকার অমানবিকতা দূর করে চিন্তা, চেতনা ও বাস্তব জীবনে আমূল পরিবর্তন সাধন করাই এর লক্ষ্য। ইসলাম– এ পরিবর্তন সাধন করে মানুষের ব্যক্তি জীবনে, পারিবারিক জীবনে, সামাজিক জীবনে, সাংস্কৃতিক জীবনে, রাজনৈতিক জীবনে ও অর্থনৈতিক জীবনে- এক কথায় মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগে। ইসলাম মূলতঃ মানব জীবনের সার্বিক কল্যাণ মূলক ব্যবস্থা। গোটা মানব জীবনের কল্যাণ সাধন করাই এর মূল লক্ষ্য। দুনিয়ায় মানুষের কল্যাণ এবং আখিরাতে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি লাভের একমাত্র সনদ ইসলাম-ই আল্লাহর মনোনীত জীবন বিধান। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফরমান- “নিশ্চয়ই আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন বিধান ইসলাম” (সুরা আলে ইমরান:১৯)। ইসলাম শব্দের অর্থ হচ্ছে- আত্মসমর্পণ করা অর্থাৎ বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করা। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট আত্মসমর্পণের মধ্যেই নিহীত আছে মানুষের কল্যাণ ও মুক্তি।

ইসলামএর প্রথম প্রধান মৌলিক বিষয়- আল্লাহপ্রতি ঈমান- আল্লাহর প্রতি ঈমান হচ্ছে- আল্লাহর রুবুবিয়্যাতে তাওহীদ। অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর; মানুষের নয়। এটাই আল্লাহর প্রতি ঈমানের মূল বিষয় এবং আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক গড়ার মূল ভিত্তি। আল্লাহর প্রতি ঈমানের ঘোষণা হচ্ছে- রাব্বুনাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব-সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তা; অন্য কেউ নয়। রবের বড়ত্ব-সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করার নির্দেশের প্রেক্ষিতেই আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সকল ঈমানদার সাহাবীদের ঘোষণা ছিল- হাদীসের ভাষায় আল্লাহু আক্‌বার-সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।

আল্লাহর উলুহিয়্যাতে তাওহীদ- আল্লাহর রুবুবিয়্যাতে তাওহীদের ফলশ্রুতি হচ্ছে- আল্লাহর উলুহিয়্যাতে তাওহীদ। অর্থাৎ দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা একমাত্র আল্লাহর; অন্য কারো নয়। আল্লাহর উলুহিয়্যাতে তাওহীদের অঙ্গীকার হচ্ছে- আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নেই কোন ইলাহ্‌-(মা’বুদ)-দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার অধিকারী সত্তা একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত”। এটা মূলতঃ ইসলামের অঙ্গীকার।

আল্লাহর উলুহিয়্যাতে তাওহীদের বাস্তবায়ন- আল্লাহর উলুহিয়্যাতে তাওহীদের বাস্তবায়ন হচ্ছে- শর্তহীন আনুগত্য-অনুসরণ ও অনুকরণ একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর, অন্য কারো নয়। এর অঙ্গীকার হচ্ছে- আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ– অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল-শর্তহীন আনুগত্য-অনুসরণ ও অনুকরণ পাওয়ার অধিকারী একমাত্র নেতা; অন্য কেউ নয়। এটা মূলতঃ ইসলাম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।

জ্ঞানের ভিত্তিতে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসসহ রাব্বুনাল্লাহ বলে ঈমানের ঘোষণা এবং ইসলাম-এর অঙ্গীকার আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও ইসলাম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ করলেই একজন ব্যক্তির অবস্থান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত্ব জীবন ব্যবস্থা ইসলাম-এ স্বীকৃত হবে।

একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের ভিত্তিতে কেবলমাত্র তাঁরই দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও উপাসনা এবং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর শর্তহীন আনুগত্য (অনুসরণ ও অনুকরণ)-এর অঙ্গীকারের মাধ্যমে গঠিত ও পরিচালিত সমাজই ইসলামী সমাজ

ইসলাম-এর বিপরীত মানব রচিত সকল প্রকার মতবাদ (ব্যবস্থাই) মূলতঃ জাহিলিয়্যাত। ইসলাম ও জাহিলিয়্যাত পরস্পর বিপরীত ও বিরোধী ব্যবস্থা। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় এ দুটোর সহ-অবস্থান আদৌ সম্ভব নয় এবং শুণ্যতাও সম্ভব নয়।

জাহিলিয়্যাত তথা মানব রচিত ব্যবস্থার মূলবিষয়- জাহিলিয়্যাত তথা মানব রচিত ব্যবস্থার মূল বিষয় হচ্ছে- আল্লাহর রুবুবিয়্যাতে (সার্বভৌমত্বে) শির্‌ক। অর্থাৎ সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মানুষের। এখানে সার্বভৌমত্ব হচ্ছে- সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের চূড়ান্ত এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতা। সার্বভৌম ক্ষমতার মালিকের ইচ্ছা, মত ও নির্দেশাবলীই আইন এবং আইনের প্রয়োগই হচ্ছে কর্তৃত্ব। সার্বভৌমত্ব যার, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব তাঁরই হয়।। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মানুষের মেনে নিলে এক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পরিবর্তে মানুষকে রব মানা হয়। ফলে আল্লাহর প্রতি ঈমানের ঘোষণা রাব্বুনাল্লা-হ-ই হয়না। অর্থাৎ আল্লাহু আক্‌বার বাদ হয়ে যায়। জাহিলিয়্যাত তথা মানব রচিত ব্যবস্থার মাধ্যমে আল্লাহর উলুহিয়্যাতে (দাসত্বে ও আনুগত্যে) শির্‌ক করা হয়। অর্থাৎ দাসত্ব মানুষের, আনুগত্য মানব রচিত ব্যবস্থার ও উপাসনা করা হয় গাইরুল্লাহর। মানব রচিত ব্যবস্থার আনুগত্য স্বীকার করলে এক্ষেত্রে আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকেই ইলা-হ স্বীকার করা হয়। ফলে ইসলামের অঙ্গীকার আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু-ই হয়না।

মানব রচিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তবে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নেতৃত্বের আনুগত্যে শির্‌ক করা হয়– অর্থাৎ মানব রচিত ব্যবস্থার ধারক-বাহক নেতা-নেত্রী বা সরকারের আনুগত্য স্বীকার করা হয়। মানব রচিত ব্যবস্থার ধারক-বাহক নেতা-নেত্রী বা সরকারের আনুগত্য স্বীকার করলে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর শর্তহীন আনুগত্যের অঙ্গীকার বাদ হয়ে যায়। অর্থাৎ ইসলাম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লা-হ-ই হয়না। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে নিলে  এবং মানব রচিত ব্যবস্থা ও এর ধারক-বাহক নেতা-নেত্রী বা সরকারের আনুগত্য স্বীকার করে নিলে ব্যক্তির অবস্থান ইসলামে নয় বরং জাহিলিয়্যাতে স্বীকৃত হয়।

সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানব রচিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মানুষের মেনে মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্য করা হয়। সুতরাং মানব রচিত ব্যবস্থা মেনে নিলে আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর ইবাদাতে (দাসত্বে ও আইনের আনুগত্যে) শির্‌ক করা হয় বিধায়; ‘ঈমান ও ইসলাম শুণ্য হয়ে যায়। ফলে ছালাত, ছওম সহ সকল ইবাদাত-আমল ধ্বংস হয়ে যায়, যার পরিণতি দুনিয়ায় অকল্যাণ, অশান্তি এবং আখিরাতে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি।

সার্বভৌমত্ব হচ্ছে- আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সর্বোচ্চ ক্ষমতা সর্বশ্রেষ্ঠ গুন-বৈশিষ্ট্য এবং এর ফলে আইন-বিধান প্রদান কর্তৃত্ব করা তাঁরই বিশেষ অধিকার সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনাসহ সর্ব বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র সার্বভৌমত্বের মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তা; অন্য কেউ নয়। সুতরাং সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় “মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব আল্লাহর রুবুবিয়্যাত-সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে চরম বিদ্রোহ যা মূলতঃ শির্‌কে আক্‌বার-ক্ষমার অযোগ্য মহা অপরাধ। সমাজ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বই দুর্নীতির মূল উৎস। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণেই মুসলিম বিশ্বসহ গোটা বিশ্বেই আজ অশান্তির আগুন জ্বলছে এবং দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিশ্ববাসীকে গ্রাস করে ফেলেছে। আজকের মুসলিম সমাজ নিজেদের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে তাদের মূল চেতনা ‘আল্লাহর প্রতি ঈমানে শির্‌ক করে মূলতঃ ঈমান ও ইসলাম থেকেই বহুদূরে সরে গেছে। মুসলিম সমাজ বা উম্মাহ্‌র মূল শক্তি হচ্ছে ঈমানী শক্তি। সেই ঈমানী শক্তি থেকে জাতি আজ বঞ্চিত। ফলে মুসলিম জাতি আজ অবহেলিত ও মূল্যহীন জাতিতে পরিণত হয়েছে। মানব রচিত ব্যবস্থা মেনে চলার কারণে মুসলিম উম্মাহ্‌র দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন এবং গোটা মানব জাতির আখিরাতের জীবন ধ্বংস হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে মুসলিম উম্মাহ্‌র উত্থান ছিল মানব জাতির কল্যাণের জন্য। দুর্ভাগ্যবশতঃ মুসলিম জাতি আজ প্রকৃত কল্যাণ ও শান্তি থেকে বঞ্চিত এবং বিশ্বের সর্বত্র মানবাধিকার ভুলণ্ঠিত। পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জানান- তোমরাই উত্তম দল-উম্মাহ্‌, মানব জাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উত্থান, তোমরা মানুষকে কল্যাণের আদেশ দিবে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহর (সার্বভৌমত্বের) প্রতি যথাযথ ঈমান রাখবে (সুরা আলে ইমরান:১১০)

কল্যাণ ও মুক্তি পথের দিশারী মুসলিম জাতি আজ কল্যাণ ও মুক্তির পথ ভুলে মানব রচিত বিধান মেনে মহা বিভ্রান্তিতে ডুবে মহা ক্ষতিতে নিমজ্জিত হয়েছে। মুসলিম উম্মাহ্‌’র প্রতি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হচ্ছে- “আদ্বীন-সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত্ব কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম কায়েম করো”। সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহ প্রদত্ত্ব একমাত্র জীবন ব্যবস্থা-আদ্বীন কায়েম করার মধ্যেই জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও দল মত নির্বিশেষে মুসলিম, অমুসলিম সকল মানুষের দুনিয়ায় কল্যাণ, শান্তি এবং আল্লাহ প্রদত্ত্ব আদ্বীন কবুলকারীদের আখিরাতে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে লাভ হবে জান্নাত।

মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগে-সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে আল্লাহ প্রদত্ত্ব আদ্বীন কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম কায়েমের চূড়ান্ত চেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়েই মুফতী আব্দুল জাব্বার (রাহিমাহল্লাহু) ১৪১৭ হিজরী সনের ১০ই মুহাররাম মোতাবিক ১৯৯৭ ঈসায়ী সালের ১৭ই মে মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত সকল প্রকার জাহিলী সমাজের বিপরীতে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।

ইসলামী সমাজ-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য- দুনিয়ায় মানুষের কল্যাণ সাধন এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভের নিমিত্তে আল্লাহর সর্বশেষ নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত্ব কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম কায়েমের সর্বাত্মক চেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জন করাই ইসলামী সমাজ-এর একমাত্র উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।

মহাগ্রন্থ আলকুরআন বিশ্বনাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর অবতীর্ণ করে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁরই প্রদত্ত্ব দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) ইসলাম-কে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ফরমান- আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর তোমাদের জন্যইসলাম-কেই একমাত্র দ্বীন-জীবন বিধানরুপে মনোনীত করলাম (সুরা মায়েদা:৩)

আল্লাহ প্রদত্ত্ব কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম–এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- আল্লাহ প্রদত্ত্ব কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম’এর গুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- দাওয়াত, কর্মনীতি ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি। ইসলাম-এর দাওয়াত কবুলকারীগণের আদ্বীন (ইসলামী জীবন ব্যবস্থা)এর কর্মনীতি মেনে ঈমান ও ইসলাম-এর তা’লীম-প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ক্রমে ক্রমে ঈমান মজবুত এবং নিখূত চরিত্র গঠন করতে হবে।

ইসলামএর দাওয়াত- আল্লাহ প্রদত্ত্ব কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম-এর প্রথম ও প্রধান মৌলিক বিষয় হচ্ছে- আল্লাহর প্রতি ঈমান। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে তাঁরই সর্বশেষ নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর প্রতি ঈমানের দাওয়াত দিয়েছিলেন এই ভাষায় যে, “আমিনু বিরাব্বিকুম-তোমরা তোমাদের রব’এর প্রতি ঈমান আনো”। ঈমানের এই দাওয়াত গ্রহণকারীদের ঈমান গ্রহণ সম্পর্কে আল্লাহ কুরআনে ফরমান- হে আমাদের রব! আমরা একজন আহ্বানকারীর আহ্বান শুনতে পেয়েছিলাম, যিনি ঈমানের দিকে আহ্বান করছিলেন (এ বলে) যে, তোমরা তোমাদের রবএর প্রতি ঈমান আনো (রবকে মেনে নাও), আমরা ঈমান এনেছি-তাঁর দাওয়াত কবুল করেছি (সুরা আলে ইমরান:১৯৩)

উক্ত আয়াতে বর্ণিত আহ্বানকারী হচ্ছেন আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আহ্বান-দাওয়াত কবুলকারীগণ হলেন আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাহাবীগণ। আল্লাহর প্রতি ঈমানের দাওয়াত প্রসংগে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আরও ফরমান- কি হলো তোমাদের? কেন তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনছোনা? অথচ রাসূল তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছেন, যেন তোমরা তোমাদের রব-এর প্রতি ঈমান আনো আল্লাহ তো পূর্বেই তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছেন, যদি তোমরা (এ অঙ্গীকারের কথায়) বিশ্বাসী হয়ে থাকো (সুরা হাদীদ:৮)

উপরোক্ত দুটো আয়াত থেকে প্রমাণিত হচ্ছে- আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দিয়েছিলেন মূলতঃ আল্লাহরই সর্বোচ্চ গুনবাচক নাম রব দ্বারা ঈমানের এই দাওয়াত কবুলকারীগণের ঘোষণা হলো রাব্বুনাল্লা-হআল্লাহই আমাদের একমাত্র রব, অন্য কেউ নয় আল্লাহকে একমাত্র রব মানার দাওয়াতের মূল অর্থ তাৎপর্য ছিল সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনাসহ মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহকেই সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক, আইনদাতা-বিধানদাতা নিরংকুশ কর্তা মেনে নেয়ার আহ্বান কেননা যে ক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বধীনতা দেননি সেক্ষেত্রে মানুষ আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান কর্তৃত্ব মেনে চলতে বাধ্য সুতরাং ব্যক্তি তার নিজ জান মাল ব্যবহারের ক্ষেত্রসহ সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনায় সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান নিরংকুশ কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর মেনে নিলেই, আল্লাহর প্রতি ব্যক্তির ঈমান আনা হয় আল্লাহর প্রতি ঈমানের পরিপূরক ঈমান হচ্ছে- আল্লাহর ফিরিস্তাগণের প্রতি ঈমান, তাঁর কিতাব সমূহের প্রতি ঈমান, তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান, আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান, তাকদীরের ভাল ও মন্দের প্রতি ঈমান। ঈমানের ফলশ্রুতিই ইসলাম-ইবাদাত অর্থাৎ আল্লাহর দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও তাঁরই উপাসনা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদাত করা প্রসংগে তিনি পবিত্র কুরআনে ফরমান- হে মানুষ সকল! তোমরা সেই রবএর ইবাদাত (দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা) করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন (সুরা আল বাকারা:২১)

ইসলামের দাওয়াত মূলতঃ একমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের দাওয়াতসকল নাবী ও রাসূলগণ তাদের নিজ নিজ জাতির নিকট আল্লাহর ইবাদাতের যে দাওয়াত দিয়েছিলেন তা পবিত্র কুরআনের সুরা আরাফ:৫৯, ৬৫, ৭৩, ৮৫; সুরা হুদ:২৬, ৫০, ৬১, ৮৪ এবং আরও বিভিন্ন সুরায় বর্ণিত আছে। যেমন- হে আমার জাতি! তোমরা শুধু আল্লাহর দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও উপাসনা করো, তিনি ছাড়া তোমাদের দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার অধিকারী (ইলাহ) কেউ নেই (সুরা আরাফ:৫৯)

আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর দাওয়াত সম্পর্কে আলকুআনে বর্ণিত হয়েছে- সেই আল্লাহই তোমাদের রব-সার্বভৌমত্বের মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তা; তিনি ব্যতিত দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার অধিকারী (ইলাহ) কেউ নেই, তিনিই সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা; কাজেই তাঁরই দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও তাঁরই উপাসনা করো, এবং তিনি সকলের উপর একমাত্র কর্তৃত্বশীল (সুরা আনআম:১০২)

আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবন সম্পর্কে বর্ণিত ইতিহাস থেকে জানা যায়- লোকদেরকে তিনি আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ (মা’বুদ) গ্রহণ করার দাওয়াত দিয়েছিলেন এ ভাষায় যে, ইয়া আইয়্যুহান্নাসু কূলু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু তুফলিহুহে সকল মানুষ! তোমরা বলো-অঙ্গীকার করো, নেই কোন ইলাহ (মাবুদ)-দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার অধিকারী সত্তা একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে-কল্যাণ লাভ করবে। ইসলামের দাওয়াত কবুলকারী ব্যক্তির অঙ্গীকার হচ্ছে- আশ্‌হাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি (অঙ্গীকার করছি), নেই কোন ইলাহ-দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার অধিকারী সত্ত্বা, একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত

হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুয়াত ও রিসালাত লাভের সময় থেকে কিয়ামাত পর্যন্ত ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম বাস্তবায়নে শর্তহীন আনুগত্য (অনুসরণ ও অনুকরণ) একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর, অন্য কারো নয়। সুতরাং ইসলাম বাস্তবায়নে শর্তহীন আনুগত্য-অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর, তিনি ব্যতিত অন্য কারো আনুগত্য শর্তহীন করা যাবে না। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মনোনীত সকল নাবী ও রাসূলগণের ইসলাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দাওয়াত ছিল- ফাত্তাকুল্লাহা ওয়া আত্বীয়ূনি-তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো (সুরা আলে ইমরান:৫০)

ইসলাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আল্লাহর সর্বশেষ নাবী রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর শর্তহীন আনুগত্যের (অনুসরণ অনুকরণের) দাওয়াত কবুলকারী ব্যক্তির অঙ্গীকার হচ্ছে- আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি (অঙ্গীকার করছি) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল-শর্তহীন আনুগত্য (অনুসরণ অনুকরণ) পাওয়ার অধিকারী একমাত্র নেতা, অন্য কেউ নয়

ইসলাম-এর কর্মনীতি- ইসলাম-এর কর্মনীতি আপোষহীন অর্থাৎ নীতি ও আদর্শে জাহিলিয়্যাতের তথা মানব রচিত ব্যবস্থার সাথে ইসলামের কোন আপোষ নেই।

ইসলামএর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি- ইসলাম-এর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি মূলতঃ আলকুরআন নাযিলের ক্রমধারায় ঈমান ও চরিত্র গঠনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহ প্রদত্ত্ব আদ্বীন-ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যথাযথ মানে কর্মী গঠন করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ফরমান- নিশ্চয়ই যারা ঘোষণা করেছে রাব্বুনাল্লাহ-আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব অতঃপর এর উপর দৃঢ় থাকে, তাদের নিকট ফিরিস্তা অবতীর্ণ হয় এবং বলে- তোমরা ভীত হয়ো  না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও (সুরা হামীম আস্‌সাজদা:৩০)  

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরও ফর্‌মান- নিশ্চয়ই যারা ঘোষণা করেছে রাব্বুনাল্লাহ-আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব অতঃপর এর উপর দৃঢ় থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবেনা এরাই হবে জান্নাতের অধিবাসী; এটাই হবে তাদের কর্মের প্রতিফল (সুরা আহকাফ:১৩-১৪)

আলকুরআনের আয়াত সমূহ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের ঘোষণা- রাব্বুনাল্লাহ-আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব-সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান নিরংকুশ কর্তৃত্বের একমাত্র মালিক; অন্য কেউ নয় হাদীসের ভাষায় আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ঘোষণা- আল্লাহু আকবার-আাল্লাহই বড়ত্বের একমাত্র মালিক অর্থা আল্লাহই সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক  

রাব্বুনাল্লাহ ঘোষণার কারণে ঈমানদারগণ তাদের নিজ বাড়ি-ঘর থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ফরমান- তাদেরকে অন্যায়ভাবে তাদের বাড়ি-ঘর থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে শুধু এই কারণে যে, তারা বলতো রাব্বুনাল্লাহ-আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব(সুরা হজ্ব:৪০)

উক্ত আয়াত প্রমাণ করছে, আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবাগণ রাব্বুনাল্লাহ ঘোষণার কারণেই মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনা এসেছিলেন সুতরাং রাব্বুনাল্লাহ জন্য বাড়ি-ঘর ত্যাগ করা যায়, কিন্তু রাব্বুনাল্লাহ ত্যাগ করা যায় না, রাব্বুনাল্লাহত্যাগ করার কোন সুযোগ নেই

ইসলামী সমাজ-এর সদস্যগণের ঘোষণা- ইসলামী সমাজ-এর সদস্যগণের ঘোষণা হচ্ছে- রাব্বুনাল্লাহ-আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব-সার্বভৌম ক্ষমতার (সার্বভৌমত্বের) একমাত্র মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা নিরংকুশ কর্তা; অন্য কেউ নয় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান কর্তৃত্বে শির্‌ক হয় বিধায়; আমরা সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান কর্তৃত্ব মানিনা, আমরা এর বিরোধী আমরা সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রসহ সর্ববিষয়ে সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান নিরংকুশ কর্তৃত্ব মানি শুধু আল্লাহর

ইসলামী সমাজ-এর সদস্যগণের অঙ্গীকার- ইসলামী সমাজ-এর সদস্যগণের অঙ্গীকার হচ্ছে- আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি (অঙ্গীকার করছি) নেই কোন ইলাহ (মা’বুদ) দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার অধিকারী সত্ত্বা একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি (অঙ্গীকার করছি) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল শর্তহীন আনুগত্য (অনুসরণ ও অনুকরণ) পাওয়ার অধিকারী একমাত্র নেতা, অন্য কেউ নয়। এটাই ‘ইসলাম’ ও ‘ইসলাম বাস্তবায়নের’ অঙ্গীকার। মানব রচিত ব্যবস্থার আনুগত্য আল্লাহর আইনের আনুগত্যে শির্‌ক এবং মানব রচিত ব্যবস্থার ধারক-বাহক নেতা বা সরকারের আনুগত্য আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নেতৃত্বের আনুগত্যে শির্‌ক হওয়ার কারণে আমরা মানব রচিত ব্যবস্থা এবং মানব রচিত ব্যবস্থার ধারক-বাহক নেতা বা সরকারের আনুগত্য স্বীকার করিনাআমরা দাসত্ব, আইনের আনুগত্য স্বীকার করি একমাত্র আল্লাহর এবং শর্তহীন আনুগত্য-অনুসরণ ও অনুকরণের অঙ্গীকার স্বীকার করি একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর

উপরোক্ত ঈমানের ঘোষণা ইসলামের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে জীবন গঠন করার মধ্যেই মানব জাতির দুনিয়ায় কল্যাণ, শান্তি এবং আখিরাতে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে লাভ হবে জান্নাত

ইসলামী সমাজ-এর দাওয়াত-  আল্লাহ প্রদত্ত্ব কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম’এর দাওয়াতী বিষয় গুলোর ভিত্তিতে ইসলামী সমাজ বিশেষভাবে বর্তমান মুসলিম উম্মাহ্‌র প্রত্যেক ব্যক্তিকে এবং সাধারণভাবে দুনিয়ার সকল মানুষকে দাওয়াত দিচ্ছে-আহ্বান করছে-

১) সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান কর্তৃত্বের অন্যায় মিথ্যা দাবী অমান্য করে আল্লাহকেই একমাত্র রবসার্বভৌমত্বের মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা নিরংকুশ কর্তা মেনে নিয়ে ঈমানের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা করুন-রাব্বুনাল্লা-হু

২) মানব রচিত ব্যবস্থার আনুগত্য অস্বীকার করে আল্লাহকেই একমাত্র ইলাহ (মাবুদ)-দাসত্ব, আইনের আনুগত্য উপাসনা পাওয়ার অধিকারী সত্ত্বা গ্রহণ করে ইসলাম-এর অঙ্গীকার করুন- আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু

৩) মানব রচিত ব্যবস্থার ধারক-বাহক নেতা বা সরকারের আনুগত্য অস্বীকার করে একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে শর্তহীন আনুগত্য-অনুসরণ অনুকরণ পাওয়ার অধিকারী একমাত্র নেতা গ্রহণ করে ইসলাম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করুন- আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

ইসলামী সমাজএর সদস্য হওয়ার ঘোষণা অঙ্গীকার

ঘোষণা: আমি/আমরা . . . দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে ঘোষণা করছি- রাব্বুনাল্লাহু- আল্লাহই আমাদের একমাত্ররব-সার্বভৌমত্বের মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তা; অন্য কেউ নয় মহাগ্রন্থ আলকুরআন আল্লাহ প্রদত্ত্ব আইন-বিধান সম্বলিত আলকিতাব এবং হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর সার্বভৌমত্ব এবং তাঁর প্রদত্ত্ব আইন-বিধান সমাজ ও রাষ্ট্রে তথা মানুষের বাস্তব জীবনে বাস্তবায়নের সর্বশেষ সার্বভৌম প্রতিনিধি-রাসূলুল্লা-হ।

অঙ্গীকার: ১) আমি শপথ করে বলছি- আশ্‌হাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি (অঙ্গীকার করছি) নেই কোন ইলাহ (মাবুদ) দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা পাওয়ার অধিকারী সত্ত্বা একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি (অঙ্গীকার করছি) হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল-শর্তহীন আনুগত্য (অনুসরণ ও অনুকরণ) পাওয়ার অধিকারী একমাত্র নেতা, অন্য কেউ নয়

২) আমি আরও শপথ করে বলছি- আল্লাহ প্রদত্ত্ব আদ্বীন-ইসলামী জীবন বিধান সমাজ ও রাষ্ট্রে কায়েম করার সর্বাত্মক চূড়ান্ত চেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি ও পরকালের সাফল্য লাভ করাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ইসলামী সমাজ-এর ইমারাত-নেতৃত্ব ও নিয়ম শৃংখলা মেনে চলার অঙ্গীকার করছি এবং জান ও মালের চূড়ান্ত কুরবানী পেশ করার অঙ্গীকার করে ইসলামী সমাজ-এর সদস্য/সদস্যা পদ গ্রহণ করলাম। আল্লাহ আমাকে এ ওয়াদাগুলো পালন করার তৌফিক দিন। আমীন!

ইসলামী সমাজএর কর্মী

ইসলামী সমাজ-এর সদস্যগণের মধ্যে যারা নিয়মিতভাবে সাংগঠনিক বৈঠক গুলোতে যোগদান করে ইল্‌ম অর্জনের মাধ্যমে ঈমান ও চরিত্র গঠনে যথাযথ ভূমিকা রাখবেন, নিয়মিতভাবে দ্বীন-ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্য মালী কুরবানী হিসাবে আল্লাহর পথে অর্থ দিবেন, নিয়মিত ঈমানী দায়িত্ব পালনে ঈমান ও ইসলাম-এর দাওয়াত লোকদেরকে দিতে থাকবেন এবং নিয়মিতভাবে ছালাত আদায় ও অহী’র বিধান অনুযায়ী সঠিক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য লাভের লক্ষ্যে কাজ করবেন, তারাই হবেন ইসলামী সমাজ-এর কর্মী।

ইসলামী সমাজ-এর কর্মনীতি

আল্লাহ প্রদত্ত্ব কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম’এর কর্মনীতি আপোষহীন। আলকুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঈমান ও ইসলাম’এর দাওয়াত কবুলকারীদের জন্য আপোষহীন কর্মনীতি ঠিক করে দিয়েছেন। মানব রচিত ব্যবস্থার অনুসারীদের সাথে আল্লাহ প্রদত্ত্ব নীতির প্রশ্নে কোনো আপোষ নেই। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের নিকট জীবন ও অর্থ সম্পদ চলে গেলেও নতি স্বীকার করা যাবেনা এবং কোনো অবস্থাতেই মানব রচিত ব্যবস্থা ও এর ধারক-বাহক নেতৃত্বের আনুগত্য স্বীকার করা চলবে না। এটাই ইসলাম’এর কর্মনীতি ইসলাম’এর কর্মনীতিই ইসলামী সমাজ-এর কর্মনীতি।

ইসলামী সমাজ-এর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি

ইসলামী সমাজ-এর প্রশিক্ষণের মূল কথা হচ্ছে- ঈমানী শক্তি অর্জন ও চরিত্র গঠন। আলকুরআন নাযিলের ক্রমধারা অবলম্বনের মাধ্যমে কর্মীদের ঈমান মজবুত এবং নিখূত চরিত্র গঠন করতে হবে। আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলকুরআনের অহী নাযিলের ক্রমধারায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একদল চরিত্রবান ঈমানদার মুসলিম লোক তৈরী করেছিলেন, যারা ছিলেন আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবায়ে কিরাম (রাযিআল্লাহু আনহু)। মানবতার সার্বিক কল্যাণে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবাগণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ ও অর্থ সম্পদের কুরবানী, সংকল্পের দৃঢ়তা, কথা ও কাজের পূর্ণ সামঞ্জস্যতা, তুলনাহীন বীরত্ব, মনের উদারতা-বিশালতা ও সকল প্রকার সংকীর্ণতা মুক্ত।

ঈমানের ঘোষণা, ইসলাম ও ইসলাম বাস্তবায়নের অঙ্গীকার-এর ভিত্তিতে ইসলামী সমাজ ঈমান ও ইসলাম-এর দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে পবিত্র আলকুরআনের অহী’র প্রশিক্ষণের আলোকে একদল ঈমানদার, চরিত্রবান মুসলিম গঠনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহ প্রদত্ত্ব কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যেই ইসলামী সমাজ-এর সদস্যগণ সময় ও অর্থ কুরবান করছেন। এ পদ্ধতিতে আখিরাতমুখী ত্যাগী ও চরিত্রবান ঈমানদার, আমলকারী, সৎলোক গঠন করাই ইসলামী সমাজ-এর প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।

সমাজ রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদর্শিত একমাত্র পদ্ধতি হচ্ছে: আল্লাহর সর্বশেষ নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের ভিত্তিতে আবু জাহিল গংদের দ্বারা পরিচালিত সমাজ মক্কায় লোকদেরকে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনাসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহকেই একমাত্র রব-সার্বভৌমত্বের একমাত্র মালিক, আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের মালিক মানার এবং তাঁরই দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য এবং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নেতৃত্বের আনুগত্য করার দাওয়াতের মাধ্যমে সকল প্রকার বিরোধীতা ও ষড়যন্তের মোকাবিলায় ছবর ও ক্ষমার নীতিতে অটল থেকেই তাঁর নিজ নেতৃত্বে “ইসলামী সমাজ গঠন”এর চূড়ান্ত প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে দাওয়াত কবুলকারী একদল ঈমানদার, চরিত্রবান লোক গঠন হয়। ইতিমধ্যে মদীনায়ও বহুলোক দাওয়াত কবুল করে রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নেতৃত্ব মেনে নেয়। ফলে মদীনা’য় ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের অনুকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরী হয়। রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর নির্দেশে হিজরত করে মদীনা’য় আসেন। মদীনাতে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় মানব রচিত ব্যবস্থার ধারক-বাহক নেতৃত্বের পতন ঘটে আর তখনই আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে মদীনা’য় আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সার্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলাম সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তী ১০ বছরে পরিপূর্ণতা লাভ করে।

আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ইন্তিকালের পর সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না থাকাকালীন আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী, নিঃস্বার্থ, ত্যাগী ও অর্থ সম্পদ কুরবানকারী, সৎকর্মশীল এবং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর যথাযথ অনুসরণ ও অনুকরণে ঈমান, ইসলামের অঙ্গীকার ও ইসলাম বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের দাওয়াত দানকারী আমীরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহরই সর্বশেষ নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চেষ্টা করতে হবে। এটাই আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের উপায়।

সমাজ ও রাষ্ট্র যখন মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের অধীনে থেকে মানব রচিত ব্যবস্থার আনুগত্যের ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত হয়, তখন একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতি ঈমান-এর দাওয়াত এবং কেবলমাত্র তাঁরই দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনার অঙ্গীকার ও তাঁরই মনোনীত সর্বশেষ নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শর্তহীন আনুগত্য-অনুসরণ ও অনুকরণ-এর অঙ্গীকারের দাওয়াত সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল মানুষের কাছে পেশ করতে হবে। দাওয়াত কবুলকারীদের নিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট গ্রহণযোগ্য হক্ব নেতার নেতৃত্বে সমাজ গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টার মাধ্যমে সমাজ গঠন প্রচেষ্টা এগিয়ে চলতে থাকবে। সমাজ গঠন-এর প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সকল শক্তির সকল প্রকার বিরোধীতা ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করার দায়িত্ব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উপর ছেড়ে দিয়ে উত্তম ধৈর্য্য, ক্ষমা ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করার নীতিতে অটল এবং ঈমান-এর উপর দৃঢ় থেকে ছালাতএর মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ সাহায্যের জন্য তাঁরই নিকট দোয়া করতে থাকতে হবে। এভাবে ঈমান-এর উপর দৃঢ় থেকে ঈমানদার, সৎকর্মশীল ও ত্যাগী হক্ব নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ গঠনের কার্যক্রম সর্বাত্মক চেষ্টার মাধ্যমে চালিয়ে যেতে থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরী হবে এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিশেষ ক্ষমতা ও কৌশলের প্রেক্ষিতে মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত নেতৃত্বের পতন ঘটবে আর তখনই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর সার্বভৌমত্বের প্রতি ঈমান আনয়নকারী সৎকর্মশীলদেরকে জমিনে খিলাফাত-রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দান করবেন।

সুরা নূরএর ৫৫ আয়াতে ঈমানদার কর্মশীলদেরকে খিলাফাত-রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দানের ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর ওয়াদা কথাই জানিয়ে দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ফরমান- আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে কাজ করবে, তাদেরকে তিনি পৃথিবীতে ঠিক তেমনিভাবে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা (খিলাফাত) দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে দান করেছিলেন এটাই সমাজ রাষ্ট্রে আল্লাহ প্রদত্ত্ব একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম প্রতিষ্ঠার আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর প্রদর্শিত একমাত্র পদ্ধতি

ইসলামী সমাজ একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আদর্শবাদী আপোষহীন প্রতিষ্ঠান: ইসলামী সমাজ একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস-ঈমান আনয়নের ঘোষণা, কেবলমাত্র তাঁরই দাসত্ব, তাঁরই আইনের আনুগত্য ও উপাসনা এবং তাঁরই মনোনীত সর্বশেষ নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর শর্তহীন আনুগত্য-অনুসরণ ও অনুকরণের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে। ইসলামী সমাজ আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বাত্মক আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সকল প্রকার উগ্রতা, জঙ্গীতৎপরতা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইসলামী সমাজ-এর দৃঢ় অবস্থান। ইসলামী সমাজ সকল প্রকার সামপ্রদায়িকতার উর্ধে উঠে ক্ষমা ও উত্তম ধৈর্য্যর নীতিতে অটল থেকে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের ভিত্তিতে মানুষের সার্বিক কল্যাণে ঈমানী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সুতরাং ইসলামী সমাজ” সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আদর্শবাদী আপোষহীন প্রতিষ্ঠান।

মানুষের সার্বভৌমত্বের অধীনে নির্বাচন কিংবা বোমাবাজি সশস্ত্র সংগ্রাম দুটোর কোনটাই সমাজ রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতি নয় মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে মানুষের মনগড়া আইনের অধীনে থেকে জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস মেনে” ভোট ও নির্বাচন ইসলাম প্রতিষ্ঠার আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতি নয়। এ পদ্ধতি গ্রহণ করলে ঈমান-এর মূল বিষয় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সার্বভৌমত্বে শির্‌ক এবং তাঁর আইন-বিধানে কুফুরী করা হয়। এ শির্‌ক ও কুফুরীর পথে আল্লাহর রহমত ও বিশেষ সাহায্য আসবে না, আসতে পারেনা; ফলে ইসলামও প্রতিষ্ঠিত হবে না।  অপরদিকে মানব রচিত ব্যবস্থার ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাস করা কালীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বোমাবাজি এবং সশস্ত্র সংগ্রাম আল্লাহ প্রদত্ত্ব জীবন ব্যবস্থা ইসলাম-এর বিধানেরই সুস্পষ্ট লংঘণ, যা মূলতঃ চরম অপরাধ এবং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নীতি ও আদর্শ বিরোধী।  এ পথেও আল্লাহর রহমত ও বিশেষ সাহায্য আসবে না আসতে পারে না, ফলে ইসলামও প্রতিষ্ঠিত হবে না। সুতরাং এ দুটোর কোনটাই ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নয়। এ দুটোই মূলতঃ ভ্রান্ত পথ। একমাত্র আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর প্রদর্শিত পথেই আল্লাহর রহমত এবং তাঁর বিশেষ সাহায্য আসবে, ফলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনেরই ইচ্ছায় সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর প্রদর্শিত পথই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার একমাত্র পদ্ধতি। তাই ইসলামী সমাজ দলমত নির্বিশেষে সকলকে সকল প্রকার ভ্রান্ত পথ ত্যাগ করে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঈমানী দায়িত্ব পালনের আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছে।

ইসলামী সমাজএর সমাজ কাঠামো কর্মনীতি

(ক) আমীর: আল্লাহর আনুগত্য এবং আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর শর্তহীন আনুগত্যের অধীন ইসলামী সমাজ ও সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করার মূল নেতাই ইসলামী সমাজ-এর আমীর। আমীর-ই সমাজ, সংগঠন ও ইসলাম প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা পরিচালনার মূল ও প্রধান প্রতিনিধি (খলিফা) এবং সকল ক্ষেত্রে দায়িত্ববান। আমীর আলকুরআন ও সুন্নাহ্‌র ভিত্তিতে নিজে পথ চলবেন এবং সমাজ ও সংগঠনের সকল সদস্য ও কর্মীদের পরিচালনা করবেন। “মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব অমান্য এবং মানব রচিত ব্যবস্থা ও এর ধারক-বাহক নেতা বা সরকারের আনুগত্য অস্বীকার করা ঈমান-এর পূর্ব শর্ত বিধায়; মানব রচিত ব্যবস্থার আনুগত্যের অধীনে থেকে ইসলামী সমাজ বা সংগঠনের আমীর হওয়া বা আমীর থাকার কারো কোন অধিকার নেই। আমীর শুধুমাত্র আল্লাহকেই ভয় করবেন। মানব রচিত ব্যবস্থার ধারক-বাহক শক্তির কোন ভয়ই তিনি করবেন না। আল্লাহর মহব্বতেই তিনি সকলকে নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী ভালবাসবেন এবং ‘আদ্বীন-ইসলামী জীবন বিধান সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকলের সার্বিক কল্যাণে আলকুরআন ও সুন্নাহ্‌র ভিত্তিতে যে কোন সময় সমাজ ও সংগঠনের যে কোন বিষয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আমীর মূলতঃ আল্লাহর মনোনীত কেননা আমীর হওয়ার যোগ্যতা যার মধ্যে থাকবে তিনিই আমীর হবেন যার আমীর হওয়ার যোগ্যতা নেই সে আমীর হতে পারেনা, হওয়া ঠিক নয় যোগ্যতা মূলতঃ আল্লাহর দান আমীর দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে কিংবা ইন্তেকাল করলে আমীর হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি নিবেদিত কর্মীদের পরামর্শের ভিত্তিতে আমীরের দায়িত্ব গ্রহন করবেন

(খ) মামুর: ইসলামী সমাজ-এর সকল সদস্য ও কর্মী ভাই এবং বোনেরা কুরআন ও সুন্নাহ্‌র ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির লক্ষ্যে আমীর’এর নির্দেশ পালন করবেন। আমীরের নির্দেশ পালনকারী প্রত্যেক সদস্য/সদস্যা বা কর্মীর পরিচয় হচ্ছে মা’মুর। আমীর আলকুরআন ও সুন্নাহ্‌র ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা ও রাখার লক্ষ্যে নেতৃত্ব দিবেন এবং মা’মুর আলকুরআন ও সুন্নাহ্‌র ভিত্তিতে আমীরের পরিচালনায় এ লক্ষ্যে ঈমানী দায়িত্ব পালন করবেন।

(গ) দায়িত্বশীল: সংগঠন পরিচালনা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে আমীর বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে যোগ্য ও ত্যাগী কর্মীদের মধ্য থেকে দায়িত্বশীল মনোনীত করবেন।

(ঘ) মহিলা সদস্যা: মহিলা সদস্যাগণ আমীর-এর নিয়ন্ত্রনে থেকে বিশেষভাবে মহিলাদের ক্ষেত্রে ঈমানী দায়িত্ব পালন করবেন।

আমীর, দায়িত্বশীল এবং সকল মামুর নিম্নে বর্ণিত ৪টি মূলনীতি মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন

১) আল্লাহর আনুগত্য

২) আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য

৩) আমীর-এর আনুগত্য এবং

৪) পরস্পর কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে আলকুরআন ও সুন্নাহ্‌র ভিত্তিতে মতবিরোধকৃত বিষয়ের মিমাংসা গ্রহণ করা ও মেনে চলা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফরমান- হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর এবং তোমাদের উলীল আমর-এর (আমীরের) অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে সামগ্রিক দায়িত্ব সম্পন্ন দায়িত্বশীলগণের। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি কোনো ব্যাপারে মতবিরোধ-মতবৈষম্যের সৃষ্টি হয়, তবে উক্ত ব্যাপারটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল’এর দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমানদার হয়ে থাকো। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম এবং কল্যাণকর কর্মনীতি (সুরা নিসা:৫৯)।

আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে ঈমানদার সৎকর্মশীল আমীরের সার্বিক নেতৃত্ব কোন সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে এ মূলনীতি গুলোর অধীন থেকে ইসলামী সমাজ একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরংকুশ কর্তৃত্বের ভিত্তিতে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত রাষ্ট্রের মডেলে ইসলামী রাষ্ট্র (খিলাফাত ব্যবস্থা) পূণঃ প্রতিষ্ঠা করবে ইন্‌শাআল্লাহ। ফলে সকল মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল মানুষের মৌলিক অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে, শোষণমুক্ত অর্থনীতি এবং সুশাসন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, দুর্নীতি সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠিত হবে; আর তখনই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণ অন্যান্য সামাজিক অপরাধ সমূহ বন্ধ হবে, দ্রব্যমূল্যের ক্রম উর্ধগতি নিয়ন্ত্রণ হবে, সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ পাবে ফলে সমাজ রাষ্ট্রের সকল মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে

ইসলামীসমাজএরকর্মসূচী

চরিত্রবান ত্যাগী কর্মী গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী সমাজ-এর কর্মসূচী হচ্ছে-

১) সাপ্তাহিক ও মাসিক কর্মী বৈঠক

২) বিশেষভাবে আলকুরআন ও সুন্নাহ্‌র প্রশিক্ষণ মূলক বৈঠক

৩) সাংগঠনিক সফর এবং সাধারণ বৈঠক ও সভা

৪) শিক্ষা বৈঠক, শিক্ষা শিবির, ও কর্মী সম্মেলন।

আল্লাহ প্রদত্ত্ব কল্যাণকর ও পরিপূর্ণ একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলাম’কে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করার মহান দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দেশবাসীকে সচেতন করা এবং সাংগঠিত করার লক্ষ্যে ইসলামী সমাজ-এর কর্মসূচী-

১) সভা, সমাবেশ, গণ জমায়েত ও অহী’র মিছিল ইত্যাদি।

২) গণ সংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি।

৩) ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও দ্বীনি বই-পত্র বিলি।

৪) জন কল্যাণ মূলক (সামর্থানুযায়ী) প্রয়োজনীয় কর্মসূচী।

৫) একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণ মূলক উদ্যোগ এবং কর্মসূচীতে যথাসাধ্য সহযোগীতা দান।

ইসলামী সমাজ-এর আয়ের ব্যয়ের খাত

আয়ের উস:

১) কর্মীদের নিয়মিত মালি কুরবানী।

২) সদস্য ও কর্মীদের বিশেষ দান, এককালীন দান।

৩) সমর্থক ও শুভাকঙ্খীদের এককালীন ও বিশেষ দান।

ব্যয়ের খাত:

১) অফিস ভাড়া ও আনুসঙ্গিক খরচ।

২) সাংগঠনিক সফর ও যোগাযোগ খরচ।

৩) প্রচার ও প্রকাশনা খরচ।

৪) নিবেদিত কর্মীদের বিশেষ প্রযোজনে সামর্থানুযায়ী প্রয়োজনীয় খরচ।

৫) জনকল্যাণে সামর্থের প্রেক্ষিতে যথাসাধ্য সহযোগীতা খরচ।

জীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান, সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক, সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি এবং বিশেষ সাহায্য লাভের লক্ষ্যে আমীর, মা’মুর সকলের তাঁরই সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলাই ইসলামী সমাজ-এর সকল কর্মকান্ডের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।

সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর প্রিয় গ্রহণযোগ্য বান্দা হিসাবে কবুল করুন। আমীন!

আলকুরআন  ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী সমাজ’কে জানুন! নিজে বাঁচুন! জাতিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।

মানবতার কল্যাণে বার্তাটি শেয়ার করুন-